
শিক্ষার্থীদের একাংশের অভিযোগ, রাশেদকে সভাপতি করতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় একজন ‘ডামি’ প্রার্থী দাঁড় করানো হয় এবং অনলাইন ভোটে একাধিক ভুয়া আইডি ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, মোট ভোটার ৯৩ জন হলেও ভোট পড়েছে ৯৫টি। অনেক শিক্ষার্থী ভোট না দেওয়ার কথা জানালেও ভোটের সংখ্যা বেশি হওয়ায় নির্বাচনপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
খুলনা জেলা ছাত্রকল্যাণ সংসদের গ্রুপে ভোটসংক্রান্ত কথোপকথনের স্ক্রিনশট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পেজে ছড়িয়ে পড়েছে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন। সেখানে মোস্তফা নামে এক শিক্ষার্থী ভোটারসংখ্যা ও প্রদত্ত ভোটের সংখ্যার অমিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মালিহা নামে আরেক শিক্ষার্থী ভোটের ফল মেনে না নেওয়ার কথা লেখেন। তবে স্ক্রিনশটগুলোর সত্যতা ও ভোটের প্রকৃত হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ছাত্রলীগের পদে থাকার নথির দাবি
প্রতিবেদকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে অনুমোদিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের একটি কমিটির নথিতে রাশেদুজ্জামান রাশেদের নাম ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। নথিতে তৎকালীন সভাপতি মো. ইব্রাহিম ফরাজি ও সাধারণ সম্পাদক এস এম আকতার হোসেনের স্বাক্ষর থাকার কথা বলা হয়েছে।
ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও রাশেদের বিরুদ্ধে সংগঠনটির তৎপরতায় সহযোগিতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে রাশেদ তাঁর বিরুদ্ধে প্রচারণাকে মিথ্যা ও মানহানিকর বলে দাবি করেছেন এবং বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্রলীগের পদ থেকে পদত্যাগ করে আন্দোলনে অংশ নেন। তাঁর বক্তব্য ও এ প্রতিবেদনে ওঠা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ জবাব সরাসরি পাওয়া প্রয়োজন।
রাফিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
খুলনা জেলা ছাত্রকল্যাণ সংসদের সাবেক দপ্তর সম্পাদক রাফিদ আদ-দ্বীন রাঈমের বিরুদ্ধে নির্বাচনে রাশেদের পক্ষে একাধিক বট আইডি ব্যবহার করে ভোট দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। এ নিয়ে সংগঠনের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয় এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জেলা কল্যাণ সংসদ সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, এ ঘটনার পর রাফিদকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত, কারণ এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য আনুষ্ঠানিক নথির মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এরপর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সংগঠনটির নামে বিভিন্ন তৎপরতার খবর প্রকাশিত হয়েছে। গত ১৪ আগস্ট ক্যাম্পাসের তৃতীয় গেটসংলগ্ন বিশ্বজিৎ চত্বরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ব্যানার টানানোর খবরও গণমাধ্যমে আসে। ওই ব্যানার টানানোর সঙ্গে রাশেদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা থাকলেও তা নিশ্চিত করার মতো তথ্য এখানে পাওয়া যায়নি।
নির্বাচনে ভোটের সংখ্যা, অনলাইন ভোটের ব্যবস্থাপনা এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির বক্তব্য ও ভোটের মূল রেকর্ড যাচাই করা জরুরি।
আপনার মতামত লিখুন :