নীলফামারীতে ১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি, শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ


মোঃ ছাইয়াদুল ইসলাম, নীলফামারী প্রকাশের সময় : ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ ৮১
নীলফামারীতে ১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি, শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ

২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় নীলফামারীর ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এর মধ্যে ১২টি কলেজ ও দুটি আলিম মাদ্রাসা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৩৯ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছেন।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে এ চিত্র উঠে এসেছে।

জেলার সদর উপজেলার আদর্শ কলেজ থেকে এবার ৪০ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ৩৬ জন।

শূন্য পাসের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নীলফামারী সদর উপজেলার আদর্শ কলেজে ৪০ জন, পঞ্চপুকুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে ছয়জন, তরনিবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুজন এবং লক্ষ্মীচাপ সৃজনশীল কলেজে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

কিশোরগঞ্জ উপজেলার ভেরভেরি মঝাপাড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫১ জন এবং নয়নখাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে তিনজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। ডোমার উপজেলার জামিরবাড়ি মহিলা কলেজে পাঁচজন এবং বাগডোকড়া নিমোজখানা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে তিনজন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।

এ ছাড়া জলঢাকা উপজেলার সমিরুদ্দিন আদর্শ হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে দুজন, ডিমলা উপজেলার আদাবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজে দুজন, জেলা পরিষদ স্কুল অ্যান্ড কলেজে একজন এবং গয়াখড়িবাড়ি মহিলা কলেজে একজন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেননি।

অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সৈয়দপুরের পোড়াহাট ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে সাতজন এবং ডোমারের পাঙ্গা চৌপথী আব্দুল মজিদ আলিম মাদ্রাসা থেকে ১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এ দুটি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীও উত্তীর্ণ হতে পারেননি।

শিক্ষকদের মতে, এমপিওভুক্ত না হওয়া, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধার অভাব, শিক্ষকসংকট এবং মানসম্মত পাঠদান উপকরণের ঘাটতি শিক্ষার পরিবেশকে ব্যাহত করছে। অনেক অভিজ্ঞ শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে বিনা বেতনে শিক্ষকতা করছেন। এতে তাঁদের পক্ষে দীর্ঘদিন পেশাগত দায়িত্ব পালন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

নীলফামারী সদর উপজেলার আদর্শ কলেজের প্রভাষক সারিউল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। শিক্ষার্থীরা ভালো লেখাপড়া করছেন। এবার কেন এমন হলো বুঝতে পারছি না। এর আগে কখনো এমন ফলাফল হয়নি। এই প্রতিষ্ঠানে ৩৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের বিল-বেতনও চালু হয়নি। তাঁরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।’

এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

ই-প্রিন্ট

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 ১২৩৪৫৬
৭৮৯১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০