
শি জিনপিংকে বিরল রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় স্বাগত জানান ট্রাম্প। জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে নিজে উপস্থিত হয়ে চীনা প্রেসিডেন্টকে অভ্যর্থনা জানান তিনি। পরে হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা ও নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। ট্রাম্প বৈঠকের আগে শির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে ‘অসাধারণ বন্ধুত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
বাণিজ্যে সাময়িক স্বস্তি
বৈঠকের অন্যতম দৃশ্যমান ফল হলো দুই দেশের বাণিজ্যযুদ্ধের সাময়িক বিরতি আরও দুই মাস বাড়ানো। এর ফলে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সমঝোতা আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। দুই পক্ষই বৃহত্তর বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে।
তবে মার্কিন কৃষিপণ্য কেনা এবং চীনের বিরল খনিজ সরবরাহ নিয়ে প্রত্যাশিত অগ্রগতির সবটা এখনও দৃশ্যমান হয়নি। ফলে বাণিজ্যিক বিরতি সাময়িক স্বস্তি দিলেও দুই দেশের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
এআই নিয়ে ভিন্ন অবস্থান
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণ নিয়েও দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। শি জিনপিং বলেছেন, এআইয়ের বিকাশ মানুষের নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়া উচিত। একই সময়ে দুই দেশ এআই নিরাপত্তা নিয়ে সংলাপ ও সহযোগিতার পথ খোলা রাখার কথা জানিয়েছে।
ইরান সংকটে অগ্রগতি নেই
ইরান ইস্যুতেও বড় কোনো সমঝোতা হয়নি। ট্রাম্প চীনের সহযোগিতা চাইলেও বেইজিং ইরানের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাইওয়ান প্রশ্নে চীনের অবস্থান
বৈঠকে তাইওয়ানও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল। চীনা প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রকে তাইওয়ানের স্বাধীনতার বিরোধিতা করার এবং বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে তাইওয়ানের জন্য প্রস্তাবিত ১৪ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন অস্ত্র প্যাকেজ এখনও পর্যালোচনায় রয়েছে।
শি একই সঙ্গে দুই দেশকে তথাকথিত ‘থুসিডিডিস ট্র্যাপ’ এড়িয়ে প্রতিযোগিতাকে সংঘাতে রূপ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।
এদিকে চীন আগামী পাঁচ বছরে এক লাখ তরুণ আমেরিকানকে দেশটিতে শিক্ষা ও বিনিময় কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানোর উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। আটলান্টার চিড়িয়াখানায় দুটি পান্ডা পাঠানোর ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন বৈঠকে দুই নেতা সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখার বার্তা দিলেও বাণিজ্য, এআই, তাইওয়ান ও ইরানসহ গুরুত্বপূর্ণ বিরোধের জায়গাগুলোতে মৌলিক মতপার্থক্য বহাল রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
আপনার মতামত লিখুন :