
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারত–রাশিয়া বন্ধনকে ‘মেরু নক্ষত্রের মতো অবিচল’ বলে উল্লেখ করেন। পুতিনও বহিরাগত চাপ মোকাবিলা এবং পারস্পরিক আস্থার ওপর ভিত্তি করে সহযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে মোদির ভূমিকাকে প্রশংসা করেন।
বাণিজ্য ও জ্বালানিতে নতুন লক্ষ্য
শীর্ষ সম্মেলনের মূল আলোচনা কেন্দ্র ছিল বাণিজ্য, জ্বালানি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা। মোদি জানান, নতুন চুক্তিগুলো ২০৩০ সাল পর্যন্ত দুই দেশের অর্থনৈতিক কর্মসূচিকে নতুন গতি দেবে। দুই পক্ষ ১০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রায় সম্মত হয়েছে।
জ্বালানি, কৃষি, ওষুধ ও শিল্পোন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা জোরদারে একাধিক সমঝোতা স্মারক বিনিময় হয়। রাশিয়া ভারতে জ্বালানির সরবরাহ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পুতিন প্রশ্ন তোলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি রাশিয়ার পারমাণবিক জ্বালানি কিনতে পারে, তবে ভারতের একই সুযোগ কেন থাকবে না।
ভারত–রাশিয়া বাণিজ্য ২০২২ সালের ১০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৬৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যার বড় অংশ আসে ভারতের ছাড়কৃত রাশিয়ান তেল আমদানি থেকে। যুক্তরাষ্ট্র এ কারণে ভারতের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।
প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও দৃঢ়
পুতিনের সফরসঙ্গী ছিলেন রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ ও সামরিক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তারা। রাশিয়া ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা করতে আগ্রহী বলে জানানো হয়।
ইউক্রেন যুদ্ধ ও ভারতের অবস্থান
মোদি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনায় জানান, ভারত শুরু থেকেই শান্তির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং এ সময় ‘যুদ্ধ নয়, স্থিতিশীলতার’ ওপর জোর দেওয়া উচিত। তবে ভারত সরাসরি রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানায়নি।
কৌশলগত সম্পর্কের বার্তা
পুতিন বলেন, ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে ভারত ও রাশিয়া একটি ন্যায্য ও বহুমেরু বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মেলন প্রায়ই এই বার্তা দিয়েছে— দুই দেশই তাদের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক দুর্বল হতে দিতে চায় না এবং বহিরাগত চাপ মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।
দিল্লিতে পুতিনের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে আরেকটি সংকেত পাঠিয়েছে— ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে চাপের মধ্যেও রাশিয়া একঘরে নয়, এবং মস্কোকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
আপনার মতামত লিখুন :