ত্বকের ক্যানসারের টিকায় বিশ্বজয়


লাখোকণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ ৪০
ত্বকের ক্যানসারের টিকায় বিশ্বজয়

মেলানোমা বা ত্বকের এক ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখাল অস্ট্রেলিয়ার গবেষণা। অস্ট্রেলীয় গবেষকদের নেতৃত্বে তৈরি ব্যক্তিভিত্তিক ক্যানসারের টিকা বড় পরিসরের পরীক্ষায় সফল হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, টিকাটি ক্যানসার ফিরে আসা ও শরীরের অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমাতে সক্ষম হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার গবেষক অধ্যাপক জর্জিনা লংয়ের নেতৃত্বে এই গবেষণা পরিচালিত হয়েছে। ক্যানসার গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রয়াত রিচার্ড স্কোলিয়ার ও অধ্যাপক জর্জিনা লংকে অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা নাগরিক নির্বাচিত করা হয়েছিল।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, রোগীর শরীর থেকে মেলানোমার অস্ত্রোপচার করে আক্রান্ত অংশ সরানোর পর তাঁর ক্যানসার কোষ ও রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। এরপর ওই রোগীর ক্যানসার কোষের বিশেষ বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করে তাঁর জন্য আলাদাভাবে টিকা তৈরি করা হয়।

এই টিকা রোগীর রোগ প্রতিরোধব্যবস্থাকে প্রশিক্ষিত করে। ভবিষ্যতে একই ক্যানসার শরীরে ফিরে এলে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা যেন দ্রুত সেই ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে আক্রমণ করতে পারে, সেটিই এই টিকার মূল লক্ষ্য।

গবেষণায় টিকাটি ক্যানসারের প্রচলিত রোগ প্রতিরোধভিত্তিক ওষুধের সঙ্গেও ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষকদের আশা, এই পদ্ধতিতে ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি কমিয়ে রোগীদের দীর্ঘ সময় ক্যানসারমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।

এই টিকার অন্যতম বিশেষত্ব হলো এটি রোগীভেদে আলাদাভাবে তৈরি করা হয়। অর্থাৎ একজন রোগীর ক্যানসারের জন্য তৈরি টিকা অন্য রোগীর ক্ষেত্রে একইভাবে ব্যবহার করা হবে না।

গবেষণায় ব্যবহৃত প্রযুক্তিটি বার্তাবাহী আরএনএভিত্তিক। করোনাভাইরাসের টিকার কারণে এই প্রযুক্তি বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে উঠলেও ক্যানসারের চিকিৎসায় এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে।

গবেষকদের দাবি, এটিই প্রথম বার্তাবাহী আরএনএভিত্তিক ক্যানসারের চিকিৎসা, যা তৃতীয় ধাপের বড় পরীক্ষায় সফল হয়েছে। গবেষণার পূর্ণাঙ্গ ফলাফল আগামী অক্টোবর মাসে স্পেনের মাদ্রিদে একটি সম্মেলনে প্রকাশ করবেন অধ্যাপক জর্জিনা লং।

এরই মধ্যে গবেষকেরা মেলানোমার পাশাপাশি অন্যান্য ধরনের ক্যানসারের চিকিৎসাতেও একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায় কি না, তা নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেছেন।

অস্ট্রেলিয়ার মেলানোমা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অধ্যাপক অ্যালেক্স মেনজিস এই সাফল্যকে ক্যানসার চিকিৎসায় সম্ভাব্য বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে পুরো ক্যানসার চিকিৎসা ব্যবস্থাতেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রোগীদের একজন গ্যারি কেবলিশ। ২০১৯ সালে তিনি এই টিকা গ্রহণ করেন। তখন চিকিৎসকেরা ধারণা করেছিলেন, পাঁচ বছরের মধ্যে তাঁর মেলানোমা ফিরে আসার আশঙ্কা ছিল ৭৫ শতাংশ। বর্তমানে তিনি ক্যানসারমুক্ত এবং সুস্থ আছেন।

তবে এই সাফল্য দেখে যাওয়ার সুযোগ হয়নি গবেষক রিচার্ড স্কোলিয়ারের। মেলানোমা গবেষণায় দীর্ঘদিন কাজ করা এই অস্ট্রেলীয় গবেষক মারা যাওয়ার আগে এই যুগান্তকারী ফলাফল দেখতে পারেননি। সূত্র: সেভেন নিউজ

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

 

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১