
আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার সদকী ইউনিয়নের তালোয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোডিং থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করা হয়। আটককৃত মোস্তাফিজুর রহমান ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তাহেরহুদা ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে।
ভুক্তভোগী শিশু পুলিশ আসার আগে সাংবাদিকদের জানায়, গত ১২ জুলাই সকালে অন্য শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিতে গেলে সে মাদ্রাসার কক্ষে ঘুমিয়ে ছিল। সকাল ১১টার দিকে বড় হুজুর মোস্তাফিজুর রহমান তার ওপর নির্যাতন চালান। শিশুটি চোখ খুললে অভিযুক্ত শিক্ষক তার মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন— “মনে কর তুমি স্বপ্ন দেখতেছ।”
শিশুটির দাবি, ‘স্বপ্ন দেখার’ কথা বলে শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান ১০ থেকে ১২ দিন ধরে তাকে এভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। অন্য শিক্ষার্থীরা ঘটনাটি টের পেয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করলে বিষয়টি জানাজানি হয়।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ওই শিক্ষার্থীকে মারধর করে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখান শিক্ষক মোস্তাফিজ। মারধরের বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেলে নির্যাতনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে তা ধামাচাপা দিতে আজ দুপুর ২টার দিকে মাদ্রাসায় সালিশ বৈঠক বসায় মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি। সেখানে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাসহ কমিটির অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় উৎসুক জনতা ভিড় জমালে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি মো. জুলফিকার মাহমুদ বলেন, “ঘটনাটি জানার পর আমরা সদস্যদের নিয়ে বসেছিলাম। এখনও বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। বুধবার সকালে আরও বড় পরিসরে সালিশ ডাকার কথা ছিল।”
ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধ সালিশে মীমাংসা যোগ্য কি না জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, “অবশ্যই সালিশে মীমাংসা করা যায়। আমরা আগে নিজেরা বসে সমাধানের চেষ্টা করি, না হলে আইনে যাব।”
বৈঠকে উপস্থিত থাকা কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার স্থানীয় বিএনপি নেতা ও মাদ্রাসার সহ-সভাপতি আব্দুল করিম বলেন, “খবর পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বসেছিলাম। বুধবার কমিটির সবাই মিলে আবারও বসার কথা ছিল।”
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীরা মিথ্যা বলছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জামাল উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি মোবাইল টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পুলিশ সেখান থেকে ভুক্তভোগী শিশু, তার বাবা এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে আসে।
ওসি আরও জানান, ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি অনুযায়ী ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :