বুক ভরা অভিমান নিয়ে চলে গেল শিল্পী সাদি মোহাম্মদ


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ১৪ মার্চ, ২০২৪, ৯:০৩ অপরাহ্ণ
বুক ভরা অভিমান নিয়ে চলে গেল শিল্পী সাদি মোহাম্মদ

লাখোকণ্ঠ প্রতিবেদক : বুক ভরা অভিমান নিয়ে চলে গেল শিল্পী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সলিমউল্যার সন্তান বিখ্যাত শিল্পী সাদি মোহাম্মদ। ৮ জুলাই মারা যান তাঁর মা। মায়ের মৃত্যুর দিন তিনি বলেছিলেন, ‘মা গত ১৫ বছর ধরে হুইল চেয়ারে বসেই স্বাভাবিক জীবন পার করছিলেন। দিনমান চেয়ারে বসেই ছুটে বেড়াতেন। তবে কিছু জটিলতা তৈরি হওয়ায় চারদিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করি। মা তো আর ফিরলেন না। চেয়ারে আর বসলেন না। জানেন, ৭১ সালের ২৬ মার্চ বাবাকে যখন পাকিস্তানি সেনারা নির্মমভাবে হত্যা করে, তখন আমার এই মায়ের কোলে ছিল ১০টি সন্তান। এই মা আমাদের ১০ ভাই-বোনকে একা মানুষ করেছেন। সেলাই মেশিন চালিয়ে আমাদের ভাত খাইয়েছেন, পড়াশোনা করিয়েছেন। এই মা ছিল আমার কাছে অন্তহীন আকাশ। যে আকাশে আমি পাখা মেলে দিতাম পাখির মতো। সেই আকাশটা আজ থেকে আর নেই।’

সাদি মোহাম্মদ সেদিন আরও জানান, তার মা ৭১ সালের ২৬ মার্চের সেই ভয়াল রাতে হানাদার বাহিনীর হাত থেকে বাঁচার জন্য মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের বাড়ির ছাদ থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়েন। সেদিন থেকে দুটো পা ভেঙে অকেজো হয়। এরপর লম্বা সময় ক্র্যাচ এবং শেষ ১৫ বছর হুইলচেয়ারে জীবন কাটিয়েছেন, একই বাড়িতে। সেই মাকে হারানোর ব্যথা বুকে চেপেই একই বাড়িতেই বেছে নেন স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ।

অনেকে বলছেন তাঁর মা কোন রাষ্ট্রিয়  পদক পাওয়া উচিৎ ছিলো।

সেই অভিমানতো ছেলে হিসেবে ছিলেই। সাদি তো ভারত – বাংলাদেশ বিখ্যাত শিল্পী তাকেও তো সে ভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। সব মিলিয়ে ছিল হয়ত না বলা অভিমান।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তার বাবা সলিমউল্লাহকে হত্যা করে। তার বাবার নামে ঢাকার মোহাম্মদপুরে সলিমউল্লাহ রোডের নামকরণ করা হয়েছে।

সাদির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে নৃত্যশিল্পী ও শিল্পীর পারিবারিক বন্ধু শামীম আরা নীপা বলেন, ‘ওনার মা মারা যাওয়ার পর থেকেই একটা ট্রমার মধ্যে চলে যান। ঠিক স্বাভাবিক ছিলেন না মানসিকভাবে। মা হারানোর বেদনা সম্ভবত তিনি নিতে পারেননি। এভাবেই চলছিল। বুধবার রোজা রাখলেন। ইফতারও করলেন। এরপরই তিনি নীরবে না ফেরার দেশে পাড়ি জমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করছি।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১