
ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ফিতরা মূলত সেইসব মুসলমানের জন্য নির্ধারিত যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং নিজেদের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে হিমশিম খান। অর্থাৎ যারা যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত, তারাই সাধারণত ফিতরারও উপযুক্ত প্রাপক।
তবে ইসলামী বিধানে কিছু নিকটাত্মীয় রয়েছেন, যাদেরকে জাকাত বা ফিতরা দেওয়া বৈধ নয়। যেমন—নিজের পিতা-মাতা, দাদা-দাদি, নানা-নানি কিংবা নিজের সন্তান-সন্ততি। কারণ তাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যদের ওপর বর্তায়। ফলে তাদেরকে জাকাত বা ফিতরা দেওয়া দানের আওতায় পড়ে না।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, আত্মীয়স্বজনের মধ্যে দরিদ্র কাউকে সাহায্য করা বিশেষভাবে সওয়াবের কাজ। এতে একদিকে যেমন দানের সওয়াব পাওয়া যায়, অন্যদিকে আত্মীয়তার বন্ধনও দৃঢ় হয়। তাই অনেক আলেমই মনে করেন, আশপাশে যদি দরিদ্র আত্মীয় থাকেন, তবে তাদেরকে সাহায্য করা আরও উত্তম।
রমজানের শিক্ষা হলো সহমর্মিতা, মানবিকতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা। তাই ফিতরা দেওয়ার সময় নিজের আশপাশের দরিদ্র আত্মীয়দের খোঁজ নেওয়া এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোই ইসলামের প্রকৃত চেতনার প্রতিফলন।
আপনার মতামত লিখুন :