
মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি, মোঃ আব্দুল কালাম : তীব্র গরম আর লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণার মাঝেই কুলাউড়া উপজেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের ওপর চেপে বসেছে বিদ্যুৎ বিলের এক ‘ভুতুড়ে’ বোঝা। চলতি মাসে উপজেলার শত শত গ্রাহকের হাতে এসেছে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ, কোথাও কোথাও তিনগুণ বেশি বিদ্যুৎ বিল।
কোনো অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার না করলেও বিলের এই অস্বাভাবিক উল্লম্ফনকে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকাশ্য ‘ডিজিটাল পকেট কাটা’ ও ‘ডাকাতি’ বলে অ্যাখ্যা দিচ্ছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনতা।বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো আসা এই কাগজের টুকরোটি মেটাতে গিয়ে নুন আনতে পান্তা ফুরানো সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসের খামখেয়ালিপনার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে কুলাউড়ার আপামর জনসাধারণ।
মিটার না দেখেই অফিসে বসে মনগড়া বিল!অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুলাউড়া বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার বিল রাইডাররা ঘরে ঘরে গিয়ে প্রকৃত মিটার রিডিং যাচাই করছেন না। অফিসে বসেই আনুমানিক বা ‘অনুমাননির্ভর’ ইউনিট বসিয়ে গ্রাহকদের ঘাড়ে এই ভুতুড়ে বিল চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের বাসিন্দা মিফতা আহমেদ রাফি ও শহরের বাসিন্দা আনিকা আক্তার সহ একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করেন, গত মাসে যাদের বিল আসতো ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা, এই মাসে তাদের বিল এসেছে ৪,০০০ থেকে ৭,০০০ টাকা পর্যন্ত! সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষ, যারা দিনমজুর বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, তারা এই বিশাল অঙ্কের বিল দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েছেন।
প্রি-পেইড মিটারেও চলছে ‘হরিণলুট’
ক্ষোভের আগুন থেকে বাদ যাননি ডিজিটাল প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারীরাও। গ্রাহকদের অভিযোগ, মিটারে ৫০০ বা ১০০০ টাকা রিচার্জ করলেই নিমিষেই তা হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। ডিমান্ড চার্জ, মিটার রেন্ট এবং ভ্যাটের নামে হিডেন চার্জ কেটে নেওয়ার এক অভিনব ফাঁদ পাতা হয়েছে এখানে। সাধারণ মানুষ বলছেন, “আগে জানতাম এনালগ মিটারে ভুতুড়ে বিল হয়, এখন দেখছি ডিজিটাল মিটার আরও বড় পকেটমার!”কুলাউড়া বাজারের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দিনে একাধিক ঘণ্টা কারেন্ট থাকে না, ব্যবসা বাণিজ্য লাটে উঠেছে।
তার ওপর গত মাসের ২ হাজার টাকার বিল এবার এসেছে সাড়ে ৫ হাজার টাকা! আমরা কি চোর-ডাকাত যে এভাবে আমাদের পকেট কাটা হচ্ছে?”আরেক ভুক্তভোগী গৃহিণী জানান, “সংসার চালাতেই হিমশিম খাচ্ছি, তার ওপর বিদ্যুতের এই ভুতুড়ে বিল পরিশোধ করতে হলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে। অফিসে অভিযোগ করতে গেলে কর্মকর্তারা পাত্তাই দেয় না, উল্টো লাইন কাটার হুমকি দেয়।”এই ভুতুড়ে বিলের বিষয়ে স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনতা। কুলাউড়ার সচেতন নাগরিক ও সাধারণ জনগন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, অনতিবিলম্বে এই ভুতুড়ে ও কাল্পনিক বিল সংশোধন না করা হলে তারা কঠোর আন্দোলনে নামবেন।
প্রয়োজনে কুলাউড়া বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও এবং বিল বর্জনের মতো কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা। সাধারণ মানুষের পিঠ এখন দেয়ালে ঠেকে গেছে; অবিলম্বে এই বিল জালিয়াতির পেছনের সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার জোরালো দাবি উঠেছে।
আপনার মতামত লিখুন :