জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা


লাখোকণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ ২৩৭
জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা

জলবায়ু পরিবর্তনের (Climate Change) ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিলেও সেগুলোর বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে বাংলাদেশ ২০২৩ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবাধিকারের বিষয়ে দেওয়া ১২টি সুপারিশ বাস্তবায়নে কতটা এগিয়েছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের অধিকার সুরক্ষা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুরক্ষা এবং জলবায়ু-সম্পর্কিত রোগের তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ বাড়ানো।

জাতিসংঘের ইউনিভার্সাল পিরিয়ডিক রিভিউ বা ইউপিআর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ মোট ৩০১টি সুপারিশ পেয়েছিল। এর মধ্যে ২১১টি গ্রহণ এবং ৯০টি সুপারিশের ক্ষেত্রে শুধু বিষয়টি নথিভুক্ত করা হয়। তবে জলবায়ু ও মানবাধিকার-সম্পর্কিত ১২টি সুপারিশ নিয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় বিস্তারিত ব্যাখ্যার ঘাটতি ছিল বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

সেমিনারে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নূরুন নাহার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতির ওপর ক্রমবর্ধমান প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী এর সবচেয়ে বড় চাপ বহন করছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হকও জলবায়ুজনিত মানবাধিকার সংকট মোকাবিলায় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

তবে অতীতের অভিজ্ঞতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বাংলাদেশের ২০১৮ সালের ইউপিআর পর্যালোচনার মধ্যবর্তী মূল্যায়নে দেখা যায়, বাস্তবায়নযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত ৮৩টি সুপারিশের মধ্যে ৩০টির ক্ষেত্রে আংশিক অগ্রগতি হয়েছিল, আর ৫৩টির বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।

বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য নতুন করে অনেক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেয়ে বিদ্যমান সরকারি কাঠামোর মধ্যেই এসব অঙ্গীকারকে কার্যকরভাবে যুক্ত করা বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে।

বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা এবং তৃতীয় জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বা এনডিসির মতো বিদ্যমান কর্মসূচির সঙ্গে জলবায়ু ও মানবাধিকারবিষয়ক প্রতিশ্রুতিগুলোকে সমন্বয় করা যেতে পারে। এতে নতুন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির প্রয়োজন কমবে এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমেই অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।

সব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন সমান কঠিন নয় বলেও বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নয়ন কিংবা জলবায়ু-সংবেদনশীল রোগের তথ্য সংগ্রহের মতো কিছু উদ্যোগ তুলনামূলকভাবে দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব। অন্যদিকে জলবায়ুর কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য অধিকারভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ নীতি তৈরি করতে ভূমির মালিকানা, নগর পরিকল্পনা ও আইনি স্বীকৃতির মতো জটিল বিষয় সমাধান করতে হবে।

তাই স্বল্পমেয়াদে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার—এই দুই ধরনের প্রতিশ্রুতিকে আলাদা করে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারগুলো শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সরকারি নীতির অংশ হিসেবে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি। এজন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্পষ্ট অবস্থান, জবাবদিহি এবং বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০