
রাজনগর(মৌলভীবাজার) উপজেলা সংবাদদাতা :চার দিনের প্রবল বর্ষন ও উজানের পানিতে রাজনগরের কাউয়াদীঘি হাওরের অর্ধেকেরও বেশি পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। তবে, কৃষকদের অভিযোগ, মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গাফিলতির কারনে চোখে সামনে তলিয়ে গেছে পাকা ধান। কাশিমপুর পাম্প হাউসের সেচ পাম্পগুলো নিয়মিত ও সবকটি পাম্প সচল রাখলে হাওরের পাকা ধান তলিয়ে যেতনা বলে অভিযোগ করেছেন কৃষকরা।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বারবার বলে আসছে তারা পানি নিয়মিত সেচ দিচ্ছে। কৃষকদের দাবি এখনও যদি পানির পাম্প নিয়মিত চালু রাখা যায় বাকি ধান টুকু ঘরে তুলা সম্ভব হবে। এদিকে শ্রমিক সংকট, বৃষ্টিতে পানি বাড়ার পাশাপাশি বজ্রপাতের ভয়ে মাঠে ধান কাটতে নামতে পারছেন না কৃষকেরা| এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাদের।
হাওর ঘুরে দেখা যায়, এবারের বোরো মৌসুমে রাজনগর উপজেলায় ১৪ হাজার হেক্টর জমিতে বুরো চাষ হয়েছে। হাওরের বিস্তীর্ণ মাঠে যেখানে ধান বাতাসে দুলছিল।পাকা ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কৃষকরা। শ্রমিক জোগাড়ে ব্যস্ত ছিলেন তারা। কিন্তু চারদিনের ব্যবধানে বৃষ্টি ও উজানের পানিতে হাওরের অনেক জায়গার ধান তলিয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার কাউয়া দীঘি হাওরে দেখা গেছে, কৃষকেরা ‘গলাডোবা’ বিলে ধান কাটছেন| নৌকা দিয়ে ধান কেটে পাড়ে আনা হচ্ছে| কম্বাইন্ড হারবেস্টার দিয়ে পানিতে ধান কাটতে না পেরে, অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ করে কোনো রকমে অনেকে ধান কেটে তুলছেন। কেউ আবার শেষ সম্বল হিসেবে ডুব দিয়ে কিছু পচা ধান কেটে কলাগাছের ভেলার ওপরে তুলে এনেছেন। অনেক জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। আর যে ধান কয়েক দিনের মধ্যে ঘরে তোলার কথা ছিল, তা এখন পানির নিচে। হাঁটু, কোমর ও গলা পানিতে নেমে কেউ কেউ ধান কাটলেও অনেক কৃষকই আশা ছেড়ে দিয়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, কাশিমপুর পাম্প হাউস নিয়মিত চালু না থাকায় বৈশাখের শুরু থেকেই অল্প অল্প করে হাওরের নিচু অঞ্চলের পাকা আধা-পাকা বোরোধান তলিয়ে যাচ্ছিল। গত চার দিনের টানা বৃষ্টিতে কাউয়া দীঘি হাওরের প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির পাকা বোরোধান তলিয়ে গেছে।

রক্তা গ্রামের কৃষক তজমুল আলী (৬৫) বলেন, হাওরে গিয়ে বুক ধরা যায় না। যে ধান দুই দিনের মধ্যে কাটার কথা ছিল তা আজ পানির নিছে।পানি বাড়ার কারণে কম্বাইন্ড হারবেস্টার মেশিন দিয়ে কাটার সুযোগ নেই| শ্রমিক দিয়ে হাতে কাটতে হচ্ছে। এছাড়াও শ্রমিক সংকট চরমে| ১ হাজার ১২শ টাকা দিয়ে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। হাওরের উলাউলি, কাটারি, বদিরবাড়া, মাঝের ছাউলিয়া, কুশুয়া, মাছুরমুখ, নিয়ামত, রুক্কা,টানাখালি, কাপনি গিরিমসহ হাওরের বেশ কয়েকটি বিলের পাকা ধান একেবারে তলিয়ে গেছে।
জাহিদপুর গ্রামের শামছুল হক (৩৫) বলেন, আমার নিজের ১০ বিঘারও বেশি পাকা ধান তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির শুরু থেকে পানি সেচ দিলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হতো না।আমরা মাঠে মারা গেছি। অনেক খরচ করে ধান চাষ করেছিলাম কিন্তু এখন ঋণের বুঝা বইতে হবে।

পানি উন্নয়নে বোর্ডের গাফিলতির কথা মানতে নারাজ মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী কর্মকর্তা খালিদ বিন ওয়ালিদ। তিনি সাংবাদিকদের কাশির পুর পাম্প হাউসের সেচ পাম্প বন্ধ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সেচ পাম্প প্রত্যেক দিনই চালু থাকে| শুধু গত দুই দিন ঝড় তুফানের জন্য পাম্প বন্ধ ছিলো| ৮টি পাম্পের মধ্যে বৃহস্পতিবার কয়টা পাম্প চালু আছে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন সবকয়টি চালু আছে| কিন্ত দুপুর ১ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেল আটটি পাম্পই বন্ধ আছে।

এব্যাপারে রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল সিকদার বলেন, হাওরে দুই তৃতিয়াংশ ধান কাটা হয়ে গেছে। ১৪০ হেক্টরেরও বেশি পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চা বাগান থেকে শ্রমিক সংগ্রহ করা হচ্ছে।আশা করছি কাল (আজ) থেকে তারা মাঠে নামবে।কাশিমপুর পাম্পা হাউজে সেচ যন্ত্র চলমান রয়েছে।আশাকরছি আমাদের তেমন ধান হয়তো নষ্ট হবে না।
আপনার মতামত লিখুন :