
সাধারণত হাওয়াইয়ের মতো আগ্নেয় দ্বীপগুলো তৈরি হয় ‘ম্যান্টল প্লুম’ নামে পরিচিত পৃথিবীর গভীর থেকে উঠে আসা উত্তপ্ত শিলাস্তম্ভের মাধ্যমে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টেকটোনিক প্লেটগুলো যখন ওই প্লুম থেকে সরে যায় এবং আগ্নেয় কার্যকলাপ ধীরে ধীরে কমে আসে, তখন সাধারণত এই স্ফীত সমুদ্রতল আবার নিচে নেমে যায়। কিন্তু বারমুডার ক্ষেত্রে তা ঘটেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বীপটি এখনও আশপাশের সমুদ্রতল থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট উঁচুতে অবস্থান করছে।
আরও পড়ুন: হোয়াটসঅ্যাপের প্রতিদ্বন্দ্বী এখন ইলন মাস্কের এক্সচ্যাট
গবেষকরা বিশ্বের বিভিন্ন ভূমিকম্প থেকে উৎপন্ন ভূকম্পীয় তরঙ্গ বিশ্লেষণ করে বারমুডার নিচের প্রায় ২০ মাইল গভীর পর্যন্ত পৃথিবীর অভ্যন্তরের একটি চিত্র তৈরি করেন। সেখানে তারা সমুদ্রীয় ভূত্বকের নিচে ১২ মাইলের বেশি পুরু এক স্তরের হালকা ঘনত্বের শিলা খুঁজে পান। এই স্তরটি ভেলার মতো কাজ করে বারমুডা ও এর সমুদ্রতলকে ভাসিয়ে রেখেছে।
আরও পড়ুন: স্বপ্ন’র গ্রাহকের তথ্য হ্যাক, কী ব্যবস্থা নিলো প্রতিষ্ঠানটি
গবেষকদের ধারণা, কোটি কোটি বছর আগে বারমুডার আগ্নেয়গিরির সক্রিয় সময়কালে কার্বনসমৃদ্ধ গলিত শিলা ভূত্বকের নিচে ঢুকে ঠান্ডা হয়ে এই স্তর তৈরি করেছিল।
গবেষক উইলিয়াম ফ্রেজার বলেন, ‘বারমুডা গবেষণার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলো প্রচলিত ম্যান্টল প্লুম তত্ত্বের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। এটি ইঙ্গিত দিচ্ছে, পৃথিবীর অভ্যন্তরে আরও কিছু জটিল প্রক্রিয়া কাজ করছে, যা এখনো পুরোপুরি বোঝা যায়নি।’
আরও পড়ুন: আন্তর্জাতিক সাইবার হামলায় আক্রান্ত বহু বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল
বিজ্ঞান সাময়িকী জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার-এ সম্প্রতি গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। উল্লেখ্য, ক্যারিবীয় সাগরের এক কল্পিত ত্রিভুজ এলাকা হলো বারমুডা ট্রায়াঙ্গল। ত্রিভুজের তিন বিন্দুতে আছে ফ্লোরিডা, বারমুডা আর প্যুয়ের্তো রিকো।
আপনার মতামত লিখুন :