দুর্গম ও পশ্চাদপদ এলাকার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে-দীপেন দেওয়ান এমপি


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২ জুলাই, ২০২৬, ১০:২৪ অপরাহ্ণ ৭৩
দুর্গম ও পশ্চাদপদ এলাকার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে-দীপেন দেওয়ান এমপি

লাখোকণ্ঠ, রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি :

শহর অঞ্চলের পাশাপাশি দুর্গম ও পশ্চাদপদ এলাকার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। উন্নয়নের সুফল থেকে কোনো মানুষ যেন বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান দীপেন দেওয়ান এমপি।।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের বিভাগীয় প্রধান ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে জেলার সব বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে বাস্তবসম্মত ও জনকল্যাণমূলক উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের জন্য তিনি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার আব্দুর রকিব, সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা প্রমুখ। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন সভা সঞ্চালনা করেন।

সভায় জেলার চলমান ও প্রস্তাবিত উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহাম্মদ শফি, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তুষিত চাকমা, গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শর্মি চাকমা, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী বিজক চাকমা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী সুব্রত বড়ুয়া, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আবু জাফর মো. এরশাদুল হক এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী প্রকাশন চাকমা।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুরিত কুমার চাকমা জানান, জেলার ১০টি উপজেলার কোনোটিতেই বর্তমানে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নেই। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম তদারকিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী সুব্রত বড়ুয়া জানান, রাঙামাটি শহরের পানি সংকট নিরসনে ইতোমধ্যে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সাজেকের পানি সমস্যা সমাধানে পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সেখানে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাঙামাটি সরকারি কলেজের শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন বলেন, কলেজ ক্যাম্পাসের মাঝ দিয়ে সড়ক থাকায় শিক্ষা পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, দুর্গম উপজেলাগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে কৃষি খাতে আরও ব্যাপক উন্নয়ন সম্ভব হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে বন বিভাগের জমির ওপর দিয়ে সড়ক নির্মাণের আগে বন বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করার আহ্বান জানান।

রাঙামাটি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, দুর্গম এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট প্রকট। অনেক শিক্ষক নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন না। বিষয়টি সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড ও রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে উপজেলা পর্যায়ে ডরমিটরি নির্মাণ করা হলে দুর্গম এলাকায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সংকট অনেকাংশে দূর হবে।

সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসা বলেন, বিলাইছড়িসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে দ্রুত জনবল নিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা নিজ নিজ বিভাগের সমস্যা, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে রাঙামাটির সার্বিক উন্নয়নে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১