শেখ হাসিনাকে ভারতে গণমাধ্যমে মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ


লাখোকণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ ৮৮
শেখ হাসিনাকে ভারতে গণমাধ্যমে মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ বাংলাদেশ

শেখ হাসিনাকে ভারতের নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমে মতবিনিময় করার সুযোগ দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশ গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করছে যে, পলাতক সাজাপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যেখানে সে ও তার দোসররা বাংলাদেশের রাষ্ট্র এবং এদেশের জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেছে।

বুধবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব তথ্য বলা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের ওপর এই ধরনের কর্মসূচির সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে ভারত সরকারকে আগেই বাংলাদেশ উদ্বেগ জানিয়েছিল। তা সত্ত্বেও এ ধরনের প্রকাশ্য অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়ায় ঢাকা গভীর অনুতাপ প্রকাশ করছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যেদিন বাংলাদেশের মানুষ জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে, সেদিন ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি এক মারাত্মক অপমান। জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এ স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক নাবালক শিশুসহ নিরীহ নাগরিকদের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের যে সত্য জাতিসংঘ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা অস্বীকার করা পলাতক সাজাপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী হাসিনা ও তার অপরাধী চক্রের ইতিহাসের ধারাকে উল্টে দেওয়ার এক ব্যর্থ প্রচেষ্টা মাত্র। বাংলাদেশের জনগণ অতীতেও এ ধরনের জঘন্য চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনো তা করে চলেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রেখে আমাদের জনগণ দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ, আমাদের জাতি আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকার দিনে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনোই কারো অনুগত বা প্রজা রাষ্ট্র হবে না। সাজাপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী হাসিনা এবং তার মাফিয়া চক্রের ঠাঁই বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কখনোই হবে না।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ওপর ভিত্তি করে ভারতের সঙ্গে একটি গঠনমূলক, পারস্পরিক সুবিধাজনক এবং ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। দুঃখজনকভাবে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এর বিপরীতে, যেকোনো অজুহাতে তাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রকাশ্য আলোচনার সুযোগ দেওয়া আমাদের জনগণের অনুভূতির জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্প্রীতিপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির জন্য ক্ষতিকর।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১