
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের হয়ে শহরের কলেজ মোড়ে অবস্থিত ‘৩৬ জুলাই’ স্মৃতিসৌধে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের একান্ত সচিব ড. মো. তারিক আজিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য ও অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. আতাউর রহমান, মেহেরপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ কে এম নজরুল কবীর, একই কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক কাউছার আলী এবং মুক্তিযোদ্ধা আহাম্মদ আলী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল আলম বকুল।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী সৌরভ মজুমদার, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আবু সাঈদ এবং সেকশন অফিসার কাজী মইনুল হক। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. আতাউর রহমান বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তিনি বলেন, দেশের মানুষ বারবার অন্যায়, নিপীড়ন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে এবং এ জাতি একটি বীরের জাতি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, “জুলাইয়ের চেতনায় গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।” তিনি বলেন, বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছে। তাই কোনো স্বৈরাচার বা অন্যায় শক্তি দীর্ঘদিন জনগণের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, অতীতে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠও রুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সাংবাদিকরা ঝুঁকি নিয়ে সত্য প্রকাশ করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উপাচার্য শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ মুগ্ধ, শহীদ ওয়াসিমসহ সকল শহীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে শিক্ষার্থীদের দেশ গঠনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের প্রতি অভিভাবকসুলভ আচরণ এবং শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ ও ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :