
রোববার দুপুরে লালমনিরহাট শহরের মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের নবনির্মিত ছয়তলা একাডেমিক ভবন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় লালমনিরহাটে মাদক প্রবেশের ঝুঁকি রয়েছে। শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি বলেন, মাদকাসক্ত তরুণদের চিকিৎসার পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া জরুরি। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে তুলে ধরার পর জেলায় আধুনিক মাদক নিরাময় কেন্দ্র ও হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
‘আলোকিত লালমনিরহাট’ উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, মাদক, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, জুয়া, ঘুষ ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর কাজ চলছে। এ উদ্যোগ আরও বিস্তৃত করা গেলে লালমনিরহাটকে সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে মেয়েদের শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে দুলু বলেন, শিক্ষার সুযোগ বাড়ার ফলে মেয়েরা উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই মেয়েদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধে পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।
মজিদা খাতুন সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম ও ফলাফলের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, লালমনিরহাটের কলেজগুলোর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ভালো অবস্থানে রয়েছে। নিয়মনীতি অনুসরণ, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং দক্ষ শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলেজটি জেলার শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এ কলেজের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন করে ভালো দিকগুলো নিজেদের প্রতিষ্ঠানে কাজে লাগালে শিক্ষার মান আরও উন্নত হবে।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক দিলীপ কুমার রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, কলেজের উপাধ্যক্ষ ও আহ্বায়ক মো. শরিফুল ইসলাম, প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা এবং শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম সাদেকী উপস্থিত ছিলেন।
পরে কলেজের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রীসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :