
অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম কলারোয়া উপজেলার কেঁড়াগাছি গ্রামের আশা গাজীর ছেলে। ভুক্তভোগী রেক্সোনা আক্তার স্মৃতি (২০) একই উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের আনারুল ইসলামের মেয়ে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে স্মৃতির সঙ্গে মনিরুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মনিরুল তাকে নিজের বাড়িসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন পার্ক ও বিভিন্ন স্থানে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন স্মৃতি।
স্মৃতির দাবি, একপর্যায়ে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। ২০২৫ সালের ২৪ মে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে পরীক্ষা করালে তার গর্ভাবস্থা নিশ্চিত হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে মনিরুল বিয়ের আশ্বাস দেন এবং কাজী ডেকে বিয়ে করার কথা বলে তাকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে গর্ভপাত করানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরবর্তীতে মনিরুল ওই সম্পর্ক ও বিয়ের প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করে গোপনে বিদেশ চলে যান বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর।
স্বজনদের ভাষ্য, মনিরুল বিদেশ চলে যাওয়ার পর অসহায় হয়ে পড়েন স্মৃতি। ন্যায়বিচারের আশায় বিভিন্নজনের কাছে সহযোগিতা চান তিনি। পরে স্থানীয়দের পরামর্শে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিয়ে ও পারিবারিক স্বীকৃতির দাবিতে মনিরুলের কেঁড়াগাছির বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন।
স্মৃতি জানান, তাকে বিয়ে করে পারিবারিক মর্যাদা না দেওয়া হলে তিনি ওই বাড়িতেই আত্মহত্যার চেষ্টা করবেন। বিষয়টি জানাজানি হলে মনিরুলের পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় সাবেক এক ইউপি সদস্যকে খবর দেন।
পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে কথা বলেন। মনিরুল দেশে ফিরলে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে ন্যায়সংগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে তিনি বাড়ি থেকে চলে যান।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী রেক্সোনা আক্তার স্মৃতি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত মনিরুল ইসলাম বা তার পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :