নেপালে বন্যায় স্বজন হারানোদের অনলাইনে হয়রানি, কঠোর হচ্ছে সরকার


আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশের সময় : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৬ অপরাহ্ণ ৭৬
নেপালে বন্যায় স্বজন হারানোদের অনলাইনে হয়রানি, কঠোর হচ্ছে সরকার

ভয়াবহ বন্যায় স্বজন হারানো ও নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি ও কটূক্তির ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছে নেপাল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সতর্ক করে বলেছেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্টকে উপহাস বা আরও বাড়িয়ে দেয়—এমন ব্যক্তিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

গত ২৬ আগস্ট নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় হিমবাহ ধসের পর ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পর অনেক পরিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধান এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদারের আহ্বান জানাচ্ছেন। কিন্তু এসব পোস্টের নিচে কেউ কেউ অশালীন, বিদ্বেষপূর্ণ ও অপমানজনক মন্তব্য করছেন।

এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, যারা এই সংবেদনশীল সময়ে মানুষের কষ্টকে খাটো করে দেখে বা তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়, তারা অপরাধী। এ ধরনের ঘটনায় সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

নিখোঁজ স্বজনের খোঁজ চেয়ে হয়রানির শিকার

বন্যায় নিখোঁজ এক নারীর ভাইয়ের সন্ধানে পরিবারটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেদন জানিয়েছিল। ওই নারী এর আগে উদ্ধারকাজ ধীরগতির অভিযোগও করেছিলেন। পরে তিনি জানান, তার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নানা কটূক্তির শিকার হতে হয়েছে।

আরেক নারী তার নিখোঁজ স্বামীকে খুঁজে বের করতে সরকারের তৎপরতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তাকেও অপমানজনক মন্তব্যের মুখে পড়তে হয়। তবে একই সময়ে অনেকে ওই নারীর পাশে দাঁড়িয়ে এসব মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন।

১০ সদস্যের তদন্ত দল

অনলাইনে বন্যাদুর্গতদের হয়রানির ঘটনা তদন্তে নেপালের সাইবার ব্যুরো ১০ সদস্যের একটি দল গঠন করেছে। তারা সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করার পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের পরিচয়, ঠিকানা ও ফোন নম্বর খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।

ইতোমধ্যে বন্যার্তদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারের কথাও জানিয়েছে সাইবার ব্যুরো। পুলিশের মতে, ওই ব্যক্তির মন্তব্যে জাতিগত উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা ছিল।

নেপালের আইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানি, হয়রানি বা বিদ্বেষমূলক আচরণের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ নেপালি রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী দুটিই হতে পারে।

কেন এমন মন্তব্য?

নেপালের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘বডি অ্যান্ড ডেটা’র নির্বাহী পরিচালক ডোভান রাইয়ের মতে, কিছু ব্যবহারকারী ইচ্ছাকৃতভাবে এমন নেতিবাচক মন্তব্য করেন, যাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং পোস্টের ছড়িয়ে পড়ার হার বাড়ে। এটিকে ‘রেজ বেইটিং’ বা ক্ষোভ উসকে দেওয়ার কৌশল হিসেবেও দেখা হয়।

এ ছাড়া রাজনৈতিক বিভাজনও অনলাইনের এই উত্তেজনাকে বাড়িয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে সরকারের সমালোচনা করা বন্যাদুর্গতদের বিরুদ্ধে একটি অংশের আক্রমণাত্মক অবস্থান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিবেশকে আরও বিভক্ত করছে।

বন্যার পর নেপালে এখনো উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট ও পানিবাহিত রোগের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। ফলে দুর্যোগের এই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে তাদের অনলাইনে হয়রানি ঠেকানোকে জরুরি বলে মনে করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সূত্র: বিবিসি নিউজ

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০