একাডেমিক সংস্কারের দাবিতে জাবিতে জাকসুর অবস্থান কর্মসূচি


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ ৫০
একাডেমিক সংস্কারের দাবিতে জাবিতে জাকসুর অবস্থান কর্মসূচি

একাডেমিক সংস্কার ও শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জাকসুর নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন। এর মধ্যে ছিল—‘সংস্কার সংস্কার, করতে হবে করতে হবে’, ‘অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার, দিতে হবে দিতে হবে’, ‘থিসিসে বরাদ্দ, বাড়াতে হবে বাড়াতে হবে’, ‘৭৫ দিনে ফলাফল, দিতে হবে দিতে হবে’ এবং ‘শিক্ষক মূল্যায়ন, চালু করো করতে হবে’।

কর্মসূচি থেকে থিসিসে বরাদ্দ বৃদ্ধি, একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন, শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু, গবেষণা কেন্দ্রে সার্টিফিকেট কোর্স চালু, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইলের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া প্রতিবন্ধীবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা চালু, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানোন্নয়ন পরীক্ষার শর্ত শিথিল, উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ, জনবল সংকট নিরসন এবং স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ মোট ১৩ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানায় জাকসু।

কর্মসূচিতে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলাম, সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ফেরদৌস আল হাসান, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক আবু উবায়দা উসামা, কার্যকরী সদস্য আবু তালহাসহ সংগঠনটির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জাকসুর এজিএস ফেরদৌস আল হাসান বলেন, ৫৪ বছরেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় একাডেমিক সংস্কার হয়নি। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বরাদ্দ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক কম। এ কারণে থিসিসের বরাদ্দ অন্তত ২০ গুণ বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, গবেষণা কেন্দ্রের কার্যক্রমে স্থবিরতা, নিয়োগে স্বজনপ্রীতি এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের অকার্যকারিতা রয়েছে। শিক্ষকদের মূল্যায়ন ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হন বলেও দাবি করেন তিনি। একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অভাবে শিক্ষার্থীদের স্নাতক শেষ করতে ছয় থেকে আট বছর পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ফেরদৌস আল হাসান বলেন, শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু, গবেষণা বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং ৭৫ দিনের মধ্যে সেমিস্টার সম্পন্ন করাসহ জাকসুর ১৩ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন করা না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে।

জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, জাকসু গঠনের আগ থেকেই বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন একাডেমিক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছিল। জাকসু গঠনের পর তারা সুনির্দিষ্ট ১৩ দফা দাবি একাডেমিক কাউন্সিলে উপস্থাপন করেন। তবে সময়ের অভাবে প্রথম কাউন্সিলের সভায় এসব দাবি নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব হয়নি।

তিনি জানান, প্রশাসন ও বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষকদের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনার পর সর্বশেষ একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় অধিকাংশ দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্তও হয়েছে বলে জানান তিনি। রোববারের সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্তের অনুমোদন ও বাস্তবায়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

কর্মসূচির শেষ দিকে উপস্থিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামরুল আহসান বলেন, জাকসুর দাবিগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক প্রতিষ্ঠানের অন্যতম মৌলিক লক্ষ্য। তাই এসব বিষয়কে শুধু শিক্ষার্থীদের দাবি হিসেবে না দেখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দ ও সীমিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়কে নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই কাজ করতে হয়। তবে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের স্বার্থে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে বরাদ্দ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উপাচার্য জানান, শিক্ষার সংকট ও বিভিন্ন দাবির মধ্যে ভারসাম্য রেখে শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য আরও বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করবেন তিনি। এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সদস্যদের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই জাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) বরাবর ১৩ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দেওয়া হয়। পরদিন একাডেমিক কাউন্সিলের সভাকে সামনে রেখে দাবিগুলোর বাস্তবায়নের জন্য অবস্থান কর্মসূচি পালন করে জাকসু। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভার আগে একই দাবিগুলো পুনরায় উত্থাপন করে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে এ অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

 

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০