
বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা এ বিষয়ে ডিক্রি-আইন অনুমোদন করে। এরপর রোববার প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি তাঁর দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব শাখার এক সমাবেশে নতুন ব্যবস্থার কথা তুলে ধরেন। ডিক্রি-আইনটি কার্যকর হলেও ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুমোদন নিতে হবে এবং প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেল্লার স্বাক্ষরও প্রয়োজন।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছর থেকে কোনো শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা নেই—এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশের বেশি রাখা হবে না। কোনো স্কুলে এই সীমা মানা সম্ভব না হলে বিশেষ ছাড়ের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোকে অতিরিক্ত ভাষা সহায়তার জন্য অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে দিতে পারবে। তাঁর হিসাবে নতুন নিয়মটি প্রায় ১ হাজার শ্রেণিকক্ষে প্রভাব ফেলতে পারে, যা দেশটির মোট শ্রেণিকক্ষের প্রায় ০.৩ শতাংশ।
এ ছাড়া নতুন ব্যবস্থায় মুখ ঢেকে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়—এমন পোশাক স্কুলে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে বোরকা ও নিকাবের নিষেধাজ্ঞাই মূলত আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
ইতালির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে দেশটির স্কুলগুলোর মোট শিক্ষার্থীর ১১.২ শতাংশ ছিল অন্য দেশের নাগরিক। একই সময়ে মোট শ্রেণিকক্ষের ৭.৬ শতাংশে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ শতাংশের বেশি ছিল।
সরকার বলছে, নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের ইতালীয় ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানো এবং স্কুলে তাদের একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা। তবে বিরোধী দল, শিক্ষক ইউনিয়ন ও স্কুলপ্রধানদের একটি অংশ উদ্যোগটির সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, নিয়ম বাস্তবায়নের আগে পর্যাপ্ত আলোচনা ও প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা করা হয়নি। সূত্র: আল জাজিরা
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :