
তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও পরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন এএসআই মোমিন। তাঁর দাবি, মাদকবিরোধী অভিযান ব্যাহত করতে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে এ অভিযোগ তোলা হয়েছে।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর ইউনিয়নের জগপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে সঞ্জয় সরকার ও বিকাশ মণ্ডল নামে দুজনকে আটক করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের তিন মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
এর পর সঞ্জয়ের স্ত্রী স্মৃতি অভিযোগ করেন, অভিযানের সময় এএসআই আব্দুল মোমিন তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন এবং আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করেছেন। এ-সংক্রান্ত একটি অডিও ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অডিওতে কথা বলা ব্যক্তির পরিচয় এএসআই মোমিন কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগ অস্বীকার করে এএসআই আব্দুল মোমিন বলেন, কোনো আর্থিক লেনদেন বা ঘুষ দাবির ঘটনা ঘটেনি। তাঁর ভাষ্য, অভিযান বানচাল ও আটক ব্যক্তিকে রক্ষা করতে না পেরে তাঁকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে অভিযোগটি তৈরি করা হয়েছে।
এদিকে থানা ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স/ক্রিমিনাল রেকর্ড-সংক্রান্ত নথিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, আটক সঞ্জয় সরকারের বিরুদ্ধে বদলগাছী থানায় ২০০৬, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২২ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন ধারায় একাধিক মামলা ও অভিযোগপত্রের তথ্য রয়েছে।
নওগাঁ জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ঘুষের অভিযোগের বিষয়ে দাপ্তরিকভাবে তাঁদের জানানো হয়নি। তিনি এএসআই আব্দুল মোমিনকে একজন সৎ কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে মাদক কারবারিরা বিভিন্নভাবে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে পারে।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দল দুজনকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় আটক করে নিয়ে এলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের সাজা দেওয়া হয়। তবে অভিযানে কোনো আর্থিক লেনদেন বা ঘুষের বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই।
ঘুষের অভিযোগের সত্যতা যাচাই বা অডিওটির ফরেনসিক পরীক্ষা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো স্বাধীন তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :