
নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এবং ডিবির ওসি মো. হাসিবুল্লাহ হাসিবের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যায় যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ থেকে রায়ের অপেক্ষমাণ একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার (মামলা নং ৯০৪/২০২২) নথি চুরির বিষয়টি পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়। পাশাপাশি একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে আদালতের এক কর্মচারীর কাছে নথি ফেরতের বিনিময়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপার দ্রুত ডিবিকে নির্দেশ দেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে।অভিযানে প্রথমে নওগাঁ সদরের সিংবাচা বাজার এলাকা থেকে এস এম আকাশ (২৬) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি সিংবাচা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহীর বাগমারা ও নওগাঁর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আদালতের নথিটি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আকাশকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার বাড়ির আঙিনায় খড়ের পালার নিচে লুকানো অবস্থায় নথি থাকার কথা স্বীকার করেন এবং তা উদ্ধার করে পুলিশকে দেখান। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পরবর্তীতে আদালতের পিয়ন ও কোর্ট কর্মচারীসহ আরও তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২ এর পিয়ন পলাশ, সাব-জজ আদালতের পিয়ন আরিফ এবং মোহরী সবুজ।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এস এম আকাশ আদালতে চলমান মামলার নথি চুরি এবং চাঁদা দাবির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তির সম্পৃক্ততার বিষয়েও তথ্য দিয়েছেন। ঘটনার পেছনে আরও কারা জড়িত এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নওগাঁর আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
আপনার মতামত লিখুন :