
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর ভেড়ভেড়ি কমিউনিটি ক্লিনিক দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে এলাকার সাধারণ মানুষ প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে গিয়ে ক্লিনিকটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। ক্লিনিকের চারপাশ অপরিচ্ছন্ন ও অবহেলিত অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় ক্লিনিকের জানালাও খোলা ছিল।
ক্লিনিকের পাশের বাসিন্দা এক নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে প্রতিদিন আসতে দেখি না। মাঝেমধ্যে এসে কিছুক্ষণ থেকে চলে যান।”
কাউয়ার মোড় বাজারের এক দোকানদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ক্লিনিকটি কেন করা হয়েছে, যদি মানুষ সেবা না-ই পায়? রোগীরা আসেন, কিন্তু ক্লিনিক বন্ধ পেয়ে ফিরে যান। এ বিষয়ে অনেকবার কর্তৃপক্ষ এসেছেন, কিন্তু কোনো পরিবর্তন হয়নি। মনে হয়, ওই ব্যক্তির ওপরের মহলে যোগাযোগ রয়েছে। আমরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।”
এদিকে পাশের ভেড়ভেড়ি হাজিরহাট কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দায়িত্বরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) মনিরা আক্তারকে পাওয়া যায়। তিনি বলেন, “আমি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টায় ক্লিনিকে আসি এবং সাধারণত বিকেল ৩টার দিকে চলে যাই।”
ওষুধের বরাদ্দ নিয়ে তিনি বলেন, “আগের তুলনায় ওষুধের বরাদ্দ কম। যতটুকু পাই, তা নিয়ম অনুযায়ী রোগীদের দেওয়ার চেষ্টা করি। উত্তর ভেড়ভেড়ি কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ থাকায় সেখানকার রোগীরাও এখানে আসেন। ফলে ওষুধের চাহিদা বেড়ে ঘাটতি দেখা দেয়। এরপরও ওষুধ থাকলে হিসাব অনুযায়ী রোগীদের দেওয়ার চেষ্টা করি।”
সরেজমিনে ওই ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা কয়েকজন রোগী মনিরা আক্তারের উপস্থিতি ও সেবার বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, উত্তর ভেড়ভেড়ি কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন দেব জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ওই দিন সকালে ফোন করে তাঁর মা অসুস্থ ও শয্যাশায়ী থাকার কথা জানিয়েছেন। তবে ওই ব্যক্তির অনিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ডা. নীল রতন দেব বলেন, “ওই ক্লিনিকের বিষয়ে এর আগেও তিন-চারটি অভিযোগ পেয়েছি। তাঁকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে। এরপরও এ ধরনের অভিযোগ পেলে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হবে। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মোট ৩৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জেলা সিভিল সার্জনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপেও লিখিতভাবে মন্তব্য চাওয়া হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :