
অনুষ্ঠানে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. সুজন মিয়া কৃষকদের উদ্দেশ্যে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন পদ্ধতি, এর ব্যবহার এবং কৃষিতে এর বহুমুখী উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এছাড়া ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম তুলে ধরে বক্তব্য দেন এলাকা ব্যবস্থাপক মো. মিজানুল ইসলাম, শাখা ব্যবস্থাপক জগন্নাথ পাল, সুকান্ত দত্তসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
বক্তারা বলেন, রাসায়নিক সারের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কেঁচোর মাধ্যমে উৎপাদিত উন্নতমানের জৈব সার ভার্মি কম্পোস্ট মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও ফসল উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে নোয়াখালী অঞ্চলের মাটিতে ভার্মি কম্পোস্ট ব্যবহারের ফলে মাটির জৈব উপাদান বৃদ্ধি পায়, পানি ধারণ ক্ষমতা উন্নত হয় এবং উপকারী অণুজীবের কার্যক্রম সক্রিয় থাকে। এর ফলে ধান, সবজি, ফলমূলসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমে আসে।
তারা আরও বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট পরিবেশ দূষণ কমাতে সহায়তা করে এবং কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখে। নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার বিকাশে জৈব সারের ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
অনুষ্ঠানে নোয়াখালী অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. আবদুস সালাম কৃষকদের পরিবেশবান্ধব কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ এবং জৈব সার ব্যবহারে উৎসাহিত করেন।
এ সময় জেলার প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে ১ লাখ ২০ হাজার মনোসেক্স তেলাপিয়া পোনা, ১ হাজার ২০০টি খাকি ক্যাম্পবেল হাঁসের বাচ্চা, ১ হাজার ৩০০টি ফাউমি মিশরীয় মুরগির বাচ্চা, ৪টি পাওয়ার টিলার, ৪টি গার্ডেন টিলার এবং ১১টি ভার্মি কম্পোস্ট প্রদর্শনী ইউনিট বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কায়েসুর রহমান। তিনি ব্র্যাকের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “কৃষকবান্ধব এ ধরনের কার্যক্রম কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।” তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা কার্যক্রমকে স্বাগত জানান এবং কৃষি উন্নয়নে ব্র্যাকের ভূমিকার প্রশংসা করেন। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ভার্মি কম্পোস্টের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে নোয়াখালী অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন আরও বেগবান হবে।
আপনার মতামত লিখুন :