
নিহত মাহমুদুর রহমান ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ঝিটকেপোতা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে জীবননগর পৌর শহরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে মাহমুদুর রহমান নিজ কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় পরিবারের সদস্যরা ডাকাডাকি করেন। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্ত্রী নাসরিন আক্তার ইতি বলেন, ঘটনার আগের রাতে তাঁদের মধ্যে কোনো বিরোধ হয়নি। সকালে মাহমুদুর রহমান ছেলের জন্য জুস কিনে বাসায় ফিরে একটি কক্ষে প্রবেশ করেন এবং দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘ সময় কোনো সাড়া না পেয়ে তাঁরা প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
নিহতের বাবা আতাউর রহমান বলেন, তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূর মধ্যে মাঝেমধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হতো। ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মাহমুদুর রহমান তাঁর মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সদস্যরা তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
জীবননগর উপজেলার কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, মাহমুদুর রহমান দায়িত্বশীল ও কর্মনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
চুয়াডাঙ্গার আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
আপনার মতামত লিখুন :