Ad: ০১৭১১৯৫২৫২২
২০শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ || ৫ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
  1. অর্থনীতি
  2. আইন আদালত
  3. আইন শৃংখলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবহাওয়া
  6. কৃষি অর্থনীতি
  7. খেলাধূলা
  8. চাকরি-বাকরি
  9. জাতীয়
  10. জীবনের গল্প
  11. ধর্ম
  12. নির্বাচনী হাওয়া
  13. ফিচার
  14. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
  15. বিনোদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ভ্রূণ হত্যা ও অবৈধ গর্ভপাতের গুরুতর অভিযোগ ডা. দীপা ত্রিপুরা বিরুদ্ধে

নিউজ রুম
সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৩ ১:০১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মাসুম সাইদুল ও আরাফাত ইসলাম (রূপক), চট্টগ্রাম : ভ্রূণ হত্যা ও অবৈধ গর্ভপাতের গুরুতর অভিযোগ ডা. দীপা ত্রিপুরা বিরুদ্ধেচট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন জেনারেল হাসপাতালের স্ত্রী রোগ চিকিৎসক এবং সার্জন ডা. দীপা ত্রিপুরার স্বেচ্ছাচারিতা ও অবৈধ কর্মকান্ডে প্রতারিত এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন নগরবাসী। গর্ভবতী মহিলাদের সরলতার সু্যোগ নিয়ে কন্ট্রাক্টে সিজার বাণিজ্য সহ ভ্রূণ হত্যা ও অবৈধ গর্ভপাত করার মত ভয়ংকর কর্মকান্ডের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, যা লাখোকন্ঠ’র গত ক’দিনের বিশেষ অনুসন্ধানে উঠে আসে। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি অবৈধ গর্ভপাত করাতে ক্ষেত্র বিশেষে ৭০০০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ফি নেন ডাক্তার দীপা ত্রিপুরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বামী কর্তৃক নির্যাতিতা জনৈকা নারী এই প্রতিবেদকে অভিযোগ করেন, বিয়ের ৪ মাস পর অন্ত:স্বত্বা হলে সেই নারীকে তার স্বামীর পরিবার সু-চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার নাম করে নিয়ে যান নগরীর সদরঘাট থানা এলাকায় অবস্থিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন জেনারেল হাসপাতালের স্ত্রী রোগ চিকিৎসক এবং সার্জন দীপা ত্রিপুরার নিকট। নির্যাতিতা সেই নারীর অভিযোগ, ডা. দীপা ত্রিপুরা তার স্বামীর পরিবারের সাথে করা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সু-চিকিৎসার কথা বলে তাকে পার্শ্ববর্তী পালস ক্লিনিক ল্যাবরেটরিতে একটি আল্ট্রাসনোগ্রাফী করতে পাঠান এবং পরবর্তীতে আলাট্রাসনোগ্রাফীর রিপোর্টে ভ্রুণের বয়স ৬ সাপ্তাহ এবং কিছু জটিলতা আছে জানিয়ে তাকে দুই দিন পর নির্ধারিত সময়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের পূর্ব গেইট এলাকায় অবস্থিত মিরর হসপিটাল নামক একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে বলেন। দু’দিন পর উক্ত প্রাইভেট ক্লিনিকে সেই নারীকে নিয়ে গেলে সেই ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে পরীক্ষা নিরিক্ষার কথা বলে রোগীকে অজ্ঞান করে গর্ভপাত ঘটান ডা. দীপা ত্রিপুরা নিজেই। এখানে উল্লেখ্য ভ্রুণ হত্যা কিংবা গর্ভপাতের মত অপারেশনগুলোর ক্ষেত্রে কৌশলে কোনো প্রকার ব্যাবস্থাপত্র কিংবা ডকুমেন্টেশন করেন না ডা. দীপা ত্রিপুরা।

উক্ত নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদক সরেজমিন অনুসন্ধানে নামলে উঠে আসে আরও ভয়ংকর চিত্র। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে পরিচয় গোপন করে প্রতিবেদক মিরর হসপিটালে ডা. দীপা ত্রিপুরা চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন কি না তা জানতে চাইলে মিরর হসপিটালের রিসিপশন ডেস্ক থেকে জানানো হয়, ডা. দীপা ত্রিপুরা রেগুলার সেখানে চিকিৎসা সেবা দেন না, তবে সিটি কর্পোরেশন জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করে এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে আসলে তিনি এই হাসপাতালে রোগী দেখেন এবং কন্ট্রাক্টে সিজার অপারেশন করেন।

মিরর হসপিটালের রিসিপশন ডেস্ক হতে প্রাপ্ত তথ্য অভিযোগকারী নারীর দেয়া তথ্যের সাথে মিল এবং সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পরদিন মিরর হসপিটালের অফিসিয়াল ফোন নাম্বারে প্রতিবেদক নিজের পরিচয় দিয়ে ডাক্তার দীপা ত্রিপুরার ভ্রুণ হত্যা ও অবৈধ গর্ভপাতের সাথে মিরর হসপিটালের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে জানতে চাইলে অপর প্রান্ত হতে ম্যানেজার পরিচয়ে জনৈক হাবিবুর রহমান জানান, বছর খানেক আগে পর্যন্ত ডা. দীপা ত্রিপুরা মিরর হসপিটালে কন্ট্রাক্টে গর্ভপাতের অপারেশন করতেন। তিনি আরও জানান, বছর খানেক আগে একজন রোগী নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে ঝামেলা সৃষ্টি হওয়ায় ডা. দীপা ত্রিপুরা এখন আর এই হসপিটালে আসেন না। তিনি পার্শ্ববর্তী ‘মা-মনি’ হাসপাতালে বর্তমানে নিয়মিত গর্ভপাতের মত অপারেশনগুলো সম্পাদন করেন (যার ভয়েস রেকর্ড লাখোকন্ঠ’র নিকট সংরক্ষিত রয়েছে)। মিরর হসপিটালের ম্যানেজারের দেয়া তথ্যের সত্যতা জানতে ‘মা-মনি’ হাসপাতালে যোগাযোগ করলে তারা শুরুতে জানান ড. দীপা ত্রিপুরা তাদের এখানে চেম্বার করেন না। কিন্তু পরবর্তীতে জানান সেখানে নিয়মিত গর্ভবতী মহিলাদের পাঠান। ‘মা-মনি’ হাসপাতালের এক কর্মচারী নাম গোপন রাখার শর্তে এই প্রতিবেদককে জানান ড. দীপা ত্রিপুরা বর্তমানে পেশেন্ট কিউর নামে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে এ ধরনের অপারেশনগুলো নিয়মিত করেন বলে তিনি জানেন। এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পেশেন্ট কিউর হসপিটালে সরেজমিনে গেলে রিসিপশন ডেস্ক থেকে জানা যায় ড. দীপা ত্রিপুরা এখন আর এই হাসপাতালে রোগী পাঠান না, আগে পাঠাতেন। এখানে উল্লেখ্য অভিযুক্ত প্রতিটি প্রাইভেট হসপিটালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বক্তব্যে নিশ্চিত হওয়া যায় ড. দীপা ত্রিপুরা এসব হসপিটালে নিয়মিত চেম্বার কিংবা অপারেশন না করলেও এসব হসপিটালে তিনি কনট্রাক্টে রোগী পাঠাতেন এবং কনট্রাক্টে অপারেশন থিয়েটার ব্যবহার করে ভ্রুণ অপসারণ তথা অবৈধ গর্ভপাতের মত কর্মকান্ড সম্পাদন করতেন। (সকল বক্তব্যের ওডিও ও ভিডিও রেকর্ড লাখোকন্ঠ’র কাছে সংরক্ষিত রয়েছে)।

 

এছাড়াও নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিটি কর্পোরেশন জেনারেল হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা জানান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একজন প্রভাবশালী উর্ধ্বতন কর্মকর্তার আশ্রয় প্রশ্রয়েই এতোটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন ডা. দীপা ত্রিপুরা এবং নগরীর প্রভাবশালী ব্যাক্তিবর্গের সাথে রয়েছে তার বিশেষ সখ্যতা। তিনি আরো জানান, সিটি কর্পোরেশন জেনারেল হাসপাতালে আসা রোগীদের ডা. দীপা ত্রিপুরা নানা কৌশলে তার নিজের পছন্দের প্রাইভেট ক্লিনিকে যেতে উদ্বুদ্ধ করেন এবং প্রাইভেট ক্লিনিকে গিয়ে তার কাছে সিজার অপারেশন করতেও উৎসাহিত করেন রোগীদের।

 

দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে ভ্রূণ হত্যা ও অবৈধ গর্ভপাতের সাথে ডা. দীপা ত্রিপুরার সম্পৃক্ততা সম্পর্কে জানতে এই প্রতিবেদক ডা. দীপা ত্রিপুরার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি দাম্ভিকতার সাথে সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবী করেন এবং বলেন গর্ভপাত ও ভ্রূণ হত্যা অবৈধ এবং প্রতিবেদক কোন পত্রিকায় কোন পোস্টে কাজ করেন তা বিশদ জানার চেষ্টা করেন (যার ভয়েস রেকর্ড লাখোকন্ঠ’র নিকট সংরক্ষিত রয়েছে)। ডা. দীপা ত্রিপুরা প্রতিবেদকের সাথে মুঠোফোনে আলাপচারীতায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অবৈধ গর্ভপাত ও ভ্রূণ হত্যার মত জঘন্য অপরাধের অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবী করলেও আলাপচারিতা শেষ হওয়ার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে প্রতিবেদকের মুঠোফোনে এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অপকর্ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করে কল করেন চট্টগ্রামের একজন জ্যোষ্ঠ সাংবাদিক নেতা এবং চট্টগ্রামের একটি স্থানীয় দৈনিকের সম্পাদকের রেফারেন্স দিয়ে সেই দৈনিকের একজন সংবাদকর্মীসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ।

 

এ সকল বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো: সেলিম আকতার চৌধুরী’র মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি প্রতিবেদকের কল রিসিভ করেননি।

 

পরবর্তীতে ডাক্তার দীপা ত্রিপুরার বিরুদ্ধে ওঠা ভ্রূণ হত্যা ও অবৈধ গর্ভপাতের অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট হলে কেন তিনি প্রভাবশালী ব্যাক্তিবর্গের দ্বারা এই প্রতিবেদককে সংবাদটি প্রকাশিত না করার জন্য অনুরোধ করাচ্ছেন তা জানতে ডা. দীপা ত্রিপুরার মুঠোফোনে বারংবার কল দিলেও তিনি এই প্রতিবেদকের কোন কলই রিসিভ করেননি।

 

বাংলাদেশের আইনানুযায়ী কোন চিকিৎসক গর্ভপাত কিংবা ভ্রূণ হত্যার মত কার্যক্রম বৈধভাবে করতে পারেন কি না সে বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা: মোহাম্মদ ইলিয়াস চৌধুরী বলেন, একজন রেজিস্টার্ড ডাক্তার শুধুমাত্র গর্ভবতী মহিলার জীবন বাঁচানোর জন্য আইনগত অভিভাবকের সম্মতিতে সঠিক ডকুমেন্টশনের মাধ্যমে রেজিস্টার্ড হাসপাতালে গর্ভপাত কিংবা ভ্রুণ অপসারণ করতে পারেন। তবে বাণিজ্যিক উদ্দেশে কিংবা সঠিক ডকুমেন্টেশন ছাড়া কোনো প্রাইভেট ক্লিনিক কিংবা প্রাইভেট চেম্বার অথবা ওটি-তে এমন অপারেশন করলে তা আইনত অবৈধ বলে গণ্য হবে।

মূলত নগরীর নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর রোগীরা সুলভ মূল্যে চিকিৎসা সেবা পেতে নিয়মিত আসেন এই সিটি কর্পোরেশন জেনারেল হাসপাতালে। এ সকল সহজ সরল রোগীদের নানা কৌশলে নিজের পছন্দের প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে কন্ট্রাক্টে সিজার বাণিজ্য, ভ্রুণ হত্যা ও অবৈধ গর্ভপাতের মত কাজে সিদ্ধহস্থ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দীপা ত্রিপুরা। তার স্বেচ্ছাচারিতা ও লালসার শিকার হয়ে সু-চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নগরীর সাধারণ মানুষ, হচ্ছেন অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ। অবৈধ গর্ভপাতের কারণে দীর্ঘ মেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুঁকিতেও পড়ছেন নগরীর অন্ত:স্বত্বা নারীরা।

 

উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের আইনে এখনও ১৮৬০-এর প্যানাল কোড চালু রয়েছে। যেখানে প্ররোচিত গর্ভপাতকে আইন বহির্ভূত হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৮৬০ সালের দন্ডবিধির ৩১২ থেকে ৩১৪ ধারায় গর্ভপাত সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘ভ্রুণ গর্ভে স্থিতি লাভের পর থেকে গর্ভকাল পূরণ হওয়ার আগে গর্ভস্থিত ভ্রুণকে অপসারণ করাকে গর্ভপাত বলে’। দন্ডবিধির ৩১২ ধারায় বলা হয়েছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্ত্রীলোকের গর্ভপাত ঘটান এবং যদি সেই গর্ভপাত সরল বিশ্বাসে ঐ স্ত্রীলোকের জীবন রক্ষার্থ্যে না করা হয়ে থাকে তাহলে সেই ব্যক্তি তিন বছর পর্যন্ত যেকোনো মেয়াদে সশ্রম বা বিনাশ্রম কারাদন্ড কিংবা জরিমানা দন্ড কিংবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন’। এসব ধারায় ক্ষেত্র বিশেষে অপরাধ বিবেচনায় ১০ বছর পর্যন্ত দন্ডের বিধান রয়েছে।

আইনগতভাবে অবৈধ ভ্রূণ হত্যা ও গর্ভপাতের মত জঘন্য কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে যে চিকিৎসকের, তার এই অবৈধ কর্মকান্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে গেলে তা না করার জন্য প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ কেন অনুরোধ করেন এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন জেনারেল হাসপাতালের এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার দ্বারা ভ্রূণ হত্যা ও অবৈধ গর্ভপাতের মত জঘন্য অপরাধের সাথে সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের সম্পৃক্ততা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। সেইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে লাখোকন্ঠ’র অনুসন্ধানী টিম। (এর পর দ্বিতীয় পর্ব)



এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।