
বুধবার নওগাঁ সদর থানা পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় এবং সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর এলাকার এক স্কুলশিক্ষকের পূর্বপরিচিত নওগাঁ সদর উপজেলার বাসিন্দা চামেলী আক্তার মিলির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ ছিল ওই শিক্ষকের। গত ২৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মিলি জরুরি কথা আছে জানিয়ে নওগাঁ শহরের তাঁর বাসায় ওই শিক্ষককে যেতে বলেন।
পুলিশের ভাষ্য, সরল বিশ্বাসে ওই বাসায় যাওয়ার পর মিলিসহ অজ্ঞাত আরও দুই থেকে তিনজন ওই শিক্ষককে আটকে ভয়ভীতি দেখান। একপর্যায়ে তাঁর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া ৩০০ টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং দুই লাখ টাকার একটি চেক লিখে নেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করে পুলিশ অভিযান শুরু করে। প্রায় এক সপ্তাহের অভিযানে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—নওগাঁ সদর উপজেলার চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাইয়ের রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছীর সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার নাঈম হোসেন (২৫)।
পুলিশ জানায়, অভিযানে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ থাকা স্ট্যাম্প এবং দুই লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলা একটি প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত। চক্রটি বিভিন্ন সময় মানুষকে নানা ধরনের প্রলোভনে ফেলে, ভয়ভীতি দেখিয়ে কিংবা ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে অর্থ আদায় করত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন
লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন
আপনার মতামত লিখুন :