রংপুরের গঙ্গাচড়ায় গৃহবধূর মৃ.ত্যু, থানায় গ্রামবাসীর অবস্থানের পর মামলা


আব্দুল বারী দুলাল, গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ ৪৭
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় গৃহবধূর মৃ.ত্যু, থানায় গ্রামবাসীর অবস্থানের পর মামলা

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সুখী মনি (২০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মামলা করতে গিয়ে পুলিশের গড়িমসির মুখে পড়তে হয় তাদের। পরে এলাকাবাসী থানায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করলে মামলা গ্রহণ করা হয় বলে দাবি স্বজনদের।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার কোলকোন্দ ইউনিয়নে স্বামীর বাড়ির নিজ ঘর থেকে সুখী মনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি পীরেরহাট এলাকার শামীম মিয়ার স্ত্রী এবং গজঘণ্টা ইউনিয়নের উমর গ্রামের মৃত এমাদুল ইসলামের মেয়ে। তাদের ১৪ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

নিহতের পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী সুখী মনির সঙ্গে শামীম মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহ চলছিল। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময় তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন বলেও অভিযোগ পরিবারের।

স্বজনরা জানান, কিছুদিন আগে নির্যাতনের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়দের সহায়তায় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে ফোন করে তাকে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে তার চাচাতো ভাই তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে যান। পরে স্বজনরা তাকে বুঝিয়ে আবার স্বামীর বাড়িতে পাঠান।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ফোন করে সুখী মনির মৃত্যুর খবর দেন। খবর পেয়ে স্বজনরা স্বামীর বাড়িতে গিয়ে পুলিশের উপস্থিতি দেখতে পান। সেখানে টিনশেড ঘরের মেঝেতে সুখী মনির মরদেহ এবং ঘরের বাঁশের তীরের সঙ্গে একটি ওড়না ঝুলতে দেখেন বলে দাবি করেন তারা। এ সময় স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলেও পরিবারের দাবি।

পরে গঙ্গাচড়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ থানায় নিয়ে যায়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, পরদিন থানায় মামলা করতে গেলে এসআই অজয় তাদের একটি কম্পিউটারের দোকান থেকে অপমৃত্যু (ইউডি) সংক্রান্ত অভিযোগ লিখিয়ে আনতে বলেন। পরিবারের সদস্যরা নিরক্ষর হওয়ায় দোকান থেকে তৈরি করে দেওয়া অভিযোগই তারা থানায় নিয়ে যান। পরে সেটি সংশোধন করতে বলা হয়। সংশোধিত অভিযোগ নিয়ে গেলে এসআই অজয় তাদের জানান, অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং তাদের জন্য সারাদিন বসে থাকা সম্ভব নয়—এমন কথা বলে তাদের চলে যেতে বলেন বলে অভিযোগ স্বজনদের।

পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ক্ষুব্ধ হয়ে দুই থেকে তিন শতাধিক গ্রামবাসী থানায় গিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা অবস্থান করেন বলে স্থানীয়রা জানান। এরপর পুলিশ নতুন করে মামলা গ্রহণ করে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(ক)/৩০ ধারায় মামলাটি করা হয়েছে। মামলার নম্বর ১৬।

এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর বলেন, বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০