
মোঃ আব্দুস সালাম ,ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটেছে। বিশেষ করে কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ, হামহাম জলপ্রপাত, মণিপুরী পল্লী, খাসিয়াপুঞ্জি এবং বিভিন্ন চা-বাগানে দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পর্যটকের উপস্থিতি দেখা গেছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও মাধবপুর লেকে। ঈদের ছুটির চতুর্থ দিন রোববার (৩১ মে) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজারো পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রকৃতির সান্নিধ্য উপভোগ করতে বনের বিভিন্ন ট্রেইল ও পাহাড়ি পথে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় দর্শনার্থীদের।
সরেজমিনে দেখা যায়, উদ্যানের প্রধান ফটক ও অভ্যন্তরীণ পথগুলোতে ছিল পর্যটকদের দীর্ঘ সারি। সবুজ অরণ্য, উঁচু-নিচু টিলা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগে ব্যস্ত সময় পার করেন তারা। একইভাবে মাধবপুর লেকেও ছিল পর্যটকদের ব্যাপক ভিড়, যেখানে শিশু ও তরুণদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
কয়েকজন পর্যটক টিকিট মূল্য নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, রাজধানীর বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানের তুলনায় এখানে প্রবেশমূল্য তুলনামূলক বেশি। পাশাপাশি পার্কিং ফি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকে।
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আমিনা বেগম বলেন, “ঈদের ছুটিতে পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বনের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটকদের সেবা নিশ্চিত করতে বন বিভাগের কর্মী ও সিপিজি সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন।”
তিনি জানান, ঈদের ছুটির প্রথম দুই দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান থেকে প্রবেশ ফি বাবদ ২ লাখ ৯১ হাজার ৫১ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। পর্যটকদের এই ব্যাপক উপস্থিতিতে স্থানীয় পর্যটন-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যেও প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
এদিকে শ্রীমঙ্গল ট্যুরিস্ট পুলিশের কর্মকর্তা পিন্টু সরকার জানান, ঈদের ছুটিতে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। লাউয়াছড়া, মাধবপুর লেকসহ গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ট্যুরিস্ট পুলিশ নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
আপনার মতামত লিখুন :