মৌলভীবাজারের কুলাউড়া পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সরকারি স্ট্যাম্প বিক্রিতে চলছে চরম স্বেচ্ছাচারিতা। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দাম আদায়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ফেলেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। স্ট্যাম্পের গায়ে লিখা মূল্যের তোয়াক্কা না করে ভেন্ডাররা অনেকটা প্রকাশ্যেই হাতিয়ে নিচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।
চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারী মাস থেকে ১৭ মার্চ পর্যন্ত
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন দোকান ও পৌর শহরের বিভিন্ন দোকানে ঘুরে জানা গেছে, ১০০ টাকার স্ট্যাম্প বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়, ২০০ টাকার স্ট্যাম্প ২৫০ টাকায় এবং ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পের জন্য আদায় করা হচ্ছে ৩৮০ টাকা পর্যন্ত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই বাড়তি টাকার পরিমাণ আরও বেশি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার অধিকাংশ দোকানেই এই চিত্র সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি রেট অনুযায়ী স্ট্যাম্প দিতে বলা হলে ভেন্ডাররা নানা অজুহাতে স্ট্যাম্প নেই বলে ফিরিয়ে দেয়। নিরুপায় হয়ে জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ এই সিন্ডিকেটের কাছে নতিস্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন, এই সিন্ডিকেটের পেছনে কাদের স্বার্থ জড়িত? স্ট্যাম্প আইন অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যের বেশি নেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও কুলাউড়ায় দৃশ্যত কোনো প্রশাসনিক অভিযান নেই।
বিশেষ করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কোনো তদারকি না থাকায় ভেন্ডাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, অসাধু ভেন্ডার এবং কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশেই এই ‘পকেট কাটা’ বাণিজ্য চলছে।
কুলাউড়ার সচেতন নাগরিকরা অনতিবিলম্বে এই অঘোষিত সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে এবং অতিরিক্ত মূল্য আদায়কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন :