
শিরোনাম দেখে অনেকেই চমকে উঠতে পারেন। ভাবছেন, রাজনগরে এমন কোন কালভার্ট আছে যেখানে পারাপারের সময় নিঃশ্বাস বন্ধ না করলে বড় বিপদ ঘটে? এটি কি কোনো ভৌতিক ঘটনা নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য? আজ উন্মোচিত হবে সেই সত্য।
মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার গোবিন্দপাটি বাজার পার হলেই দেখা মেলে এই কালভার্টটির। তবে এই স্থানটি পার হতে গিয়ে পথচারী ও যাত্রীদের নাভিশ্বাস ওঠে। ভৌতিক কোনো কারণ নয়, বরং কালভার্টটির কয়েক গজ দূর থেকেই সৃষ্টি হওয়া তীব্র পচা দুর্গন্ধের কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে নাক-মুখ চেপে ধরেন কিংবা নিঃশ্বাস বন্ধ করে দ্রুত স্থানটি ত্যাগ করেন। এখানে নিঃশ্বাস নেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কিছুদিন পর পরই এই এলাকায় অসহ্য দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। মূলত কিছু অসচেতন ব্যক্তি গরু জবাইয়ের পর চামড়া, রক্তসহ যাবতীয় উচ্ছিষ্ট ও বর্জ্য এই কালভার্টের নিচে বা আশেপাশে ফেলে রাখেন। কয়েক দিন যেতে না যেতেই সেই বর্জ্য পচে চারদিকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এই দুর্গন্ধ কখনো কয়েক সপ্তাহ, আবার কখনো কয়েক মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
গোবিন্দপাটি এলাকার বাসিন্দা ও নিয়মিত যাতায়াতকারী যাত্রীদের জনজীবন এই দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। এটি রাজনগর থেকে মৌলভীবাজার শহরে যাওয়ার প্রধান সড়ক হওয়ায় প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে এই অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে। যানবাহনে যাতায়াতের সময়ও এই তীব্র গন্ধ থেকে রেহাই পাওয়া যাচ্ছে না।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও পথচারীদের দাবি, এই জনদুর্ভোগের জন্য দায়ী ওইসব অসচেতন মানুষ। তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং শাসানো উচিত। সামান্য কিছু মানুষের অবিবেচক কাজের জন্য প্রতিদিন হাজারো মানুষকে এই পচা গন্ধের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সম্প্রতি এই দুর্গন্ধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাধারণ মানুষ দ্রুত এই স্থানটি পরিষ্কার করা এবং বর্জ্য ফেলা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :