
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ভান্ডারীগাঁও সড়কে পাকাকরণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, এলজিইডি অফিসের অধীনে আরএডিপি প্রজেক্টের আওতায় প্রায় ৯১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই রাস্তাটির কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের ফলে ক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসী।
অভিযোগের নেপথ্যে: অনুসন্ধানে জানা যায়, কর্মধা ইউনিয়ন অফিস থেকে ভান্ডারীগাঁও মুখী রাস্তাটির কাজ সিডিউল অনুযায়ী সম্পন্ন করার কথা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাস্তায় অত্যন্ত নিম্নমানের ২ নম্বর ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রাস্তার কাজ শুরু হলেও দুর্নীতির কারণে টেকসই উন্নয়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। বর্তমানে রাস্তার বেহাল দশায় এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
যোগাযোগে অনীহা ও রহস্যজনক আচরণ: দুর্নীতির বিষয়ে কথা বলতে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স দেবাংশু’র স্বত্বাধিকারীর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সংবাদকর্মী পরিচয় পাওয়ার পরপরই ফোন কেটে দেন। বারবার চেষ্টা করলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, তদারকির দায়িত্বে থাকা কুলাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম সিকদার জয়ের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মহিউদ্দিন বলেন, বিষয়টি এলজিইডির কন্ট্রোলিং অফিসার দেখবে আমার দেখার বিষয় নয়।
এমনকি জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের ফোনে কল দিলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
জনমনে প্রশ্ন: ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের এই প্রকাশ্য অনিয়মের বিরুদ্ধে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কেন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই নীরবতাকে ‘রহস্যজনক’ বলে মনে করছেন সচেতন মহল। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রাস্তার কাজটি বন্ধ রয়েছে । বেশ কিছু দিন আগে লাখোকন্ঠে অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ হলে কাজটি বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা দেয় এলজিইডি উপজেলা কার্যালয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ১ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় নি কর্তৃপক্ষ।
দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণ করে সিডিউল অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন ভান্ডারীগাঁওবাসী।
আপনার মতামত লিখুন :