
রাজধানীর উত্তরায় মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী ওরফে হাজী মুজিবের মালিকানাধীন মার্কেটে ভাঙচুর ঘটনায়। আদালতে দুই নারীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
জবানবন্দি দেওয়া দুই নারী হলেন, চাঁদনি জামান ওরফে ইভা এবং শামীমা আক্তার সুমা ওরফে নুসরাত নওশিন সুমা।
এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই মো. সুমন মিয়া তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন।
মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টার দিকে উত্তরা পশ্চিম থানার জমজম টাওয়ার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর ঘটনার বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এর আগে মঙ্গলবার ১১ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।
রোববার রাতে ১১ নম্বর সেক্টরের ‘উত্তরা স্কয়ার’ শপিং কমপ্লেক্স ঘেরাও করে বিক্ষুব্ধ রিকশা ও অটোরিকশা চালকরা দফায় দফায় হামলা চালায়।
এমপি মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) দাবি করেছেন, মব সৃষ্টি করে মার্কেটে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
পুলিশ বলছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় মার্কেটের সামনে একটি রিকশা পার্কিংকে কেন্দ্র করে।রিকশা থামিয়ে রাখলে সেখানকার নিরাপত্তাকর্মী রিকশাচালককে চলে যেতে বলেন। রিকশাচালক না গেল তার রিকশার পিছনে লাঠি দিয়ে বাড়ি মারেন নিরাপত্তাকর্মী।
এরপর একাধিক রিকশা ও অটোরিকশা চালক সেখানে হট্টগোল করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে এলাকাবাসী ও রিকশাচালকরা মিলে ‘মব’ সৃষ্টি করে।
এরমধ্যে এক ‘রিকশা চালককে হত্যার গুজব ছড়িয়ে’ দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গেলে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
পরের দিন সরকারি কাজে বাধা এবং পুলিশ আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় অচেনা ৭০০ ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করে পুলিশ। এ মামলায় সে দিনে রাতে পুলিশের তরফে ৫ জনকে গ্রেপ্তার ও কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য দেওয়া হয়।
আপনার মতামত লিখুন :