লাখোকণ্ঠ ডেস্ক: শীত এলেই গ্রামে-গঞ্জে দেখা মেলে পরিচিত এক টুপি মাংকি ক্যাপের। দেখতে একেবারেই ফ্যাশনেবল নয়, বরং দেখতে অনেকেটা হাস্যকর, তবুও বছরের পর বছর, শীতের দিনে এই টুপির ব্যবহার একটুও কমেনি। কিন্তু ফ্যাশনের তালিকায় না থেকেও কিভাবে মাংকি ক্যাপ হয়ে উঠল আমাদের শীতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, জানেন কি ? আসুন জেনে নেওয়া যাক এই টুপির অজানা ইতিহাস ।
মাংকি ক্যাপের আসল নাম- আমরা যাকে মাংকি ক্যাপ বলি, তার আসল নাম বালাক্লাভা। এই টুপির জন্ম উনিশ শতকে। ক্রিমিয়ান যুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সেনারা তীব্র ঠাণ্ডা থেকে বাঁচতে এই ধরনের টুপি ব্যবহার করতেন। যুদ্ধক্ষেত্রের নাম থেকেই এই টুপির নামকরণ হয়। পরবর্তীকালে মাংকি ক্যাপ ইউরোপ পেরিয়ে আমাদের দেশে আসে। তবে এ দেশে এসে এটি কখনো ফ্যাশনের অনুষঙ্গ হয়ে ওঠেনি, বরং সাধারণ মানুষের শীতের প্রয়োজনীয় পোশাক হিসেবেই জায়গা করে নেয়।
কেন এত জনপ্রিয় মাংকি ক্যাপ- আসলে এ দেশের বেশিরভাগ জায়গায় শীত খুব কড়া না হলেও ভোরে কুয়াশা, ঠাণ্ডা বাতাস, রাতে তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যাওয়ার মতো অবস্থা দেখা দেয়। যার জন্য মাথা, কান ও গলা ঢাকার প্রয়োজন হয়। মাংকি ক্যাপ একসঙ্গে এই তিনটি কাজই করে। উপরন্তু, দাম কম, সহজে পাওয়া যায়, হালকা এবং ব্যবহারযোগ্য, আলাদা স্কার্ফ বা টুপি দরকার হয় না। এই সমস্ত কারণেই গ্রাম থেকে শহর, সব জায়গাতেই মাংকি ক্যাপ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
ফ্যাশন না হলেও মাংকি ক্যাপকে ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে আবেগ। এই টুপি মানেই শীতের স্কুলে যাওয়া, সকালে মা-দাদিদের সঙ্গী, কিংবা ভোরে দুধওয়ালা বা পত্রিকাওয়ালার ছবি—এই টুপির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনেকের শৈশবের স্মৃতি। যদিও নতুন প্রজন্ম অনেক সময় এটাকে ‘আনফ্যাশনেবল’ বলে মজা করে, তবু ঠাণ্ডা পড়লেই অনেকেই আবার পুরনো মাংকি ক্যাপ খুঁজে বের করেন।
ইদানীং দামি ফ্যাশনেও ঢুকেছে মাংকি ক্যাপ! যে মাংকি ক্যাপের ৫০–১০০ টাকা দাম, সেই একই ধরনের টুপি বিদেশে স্কি মাস্ক নামে বিখ্যাত ফ্যাশন ব্র্যান্ডে হাজার হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই রসিকতা করে বলেছেন, ‘আমরা তো ছোটবেলা থেকেই ফ্যাশনে ছিলাম!’
মাংকি ক্যাপ হয়তো কখনো র্যাম্পে হাঁটবে না, ফ্যাশন ম্যাগাজিনের কভারেও উঠবে না। কিন্তু বাস্তব জীবনে ঠাণ্ডা থেকে বাঁচাতে, সাধারণ মানুষের প্রয়োজন মেটাতে আর শীতের নস্টালজিয়া ধরে রাখতে মাংকি ক্যাপ আজও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
সূত্র : আজকাল


আপনার মতামত লিখুন :