দামুড়হুদায় বিষমিশ্রিত ধান খেয়ে প্রায় ৫০০ পাখির মৃত্যু


শিমুল রেজা, চুয়াডাঙ্গা প্রকাশের সময় : ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৭ অপরাহ্ণ ৬৩
দামুড়হুদায় বিষমিশ্রিত ধান খেয়ে প্রায় ৫০০ পাখির মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের মদনা মাঠে বিষমিশ্রিত ধান খেয়ে দেশীয় প্রজাতির প্রায় ৫০০ পাখির মৃত্যু হয়েছে। ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমনে জমিতে বিষ প্রয়োগের পর ওই বিষমিশ্রিত ধান ছড়িয়ে রাখা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রোববার মদনা মাঠের একটি ফসলি জমিতে পোকামাকড় দমনের জন্য কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। পরে জমিতে বিষমিশ্রিত ধান ছড়িয়ে রাখা হলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি তা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিপুলসংখ্যক পাখি মারা যায়। পরে মাঠে একসঙ্গে অনেক পাখির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে।

খবর পেয়ে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন এবং জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

পরে জমির মালিক রাজনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জমিতে বিষ প্রয়োগের বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমনের জন্য তাঁর বাবা আতিয়ার ওই জমিতে বিষমিশ্রিত ধান ছিটিয়ে রেখেছিলেন। স্থানীয়দের ধারণা, ওই ধান খেয়েই পাখিগুলোর মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমির মালিককে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে ফসল রক্ষায় কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও মাত্রা অনুসরণের বিষয়ে স্থানীয় কৃষকদের সচেতন করা হয়।

দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শাহীন আলম বলেন, ফসল রক্ষার জন্য কীটনাশক ব্যবহার করতে হলে নির্ধারিত নিয়ম ও মাত্রা অনুসরণ করতে হবে। অনিয়ন্ত্রিতভাবে কীটনাশক ব্যবহার কিংবা বিষমিশ্রিত খাবার খোলা অবস্থায় জমিতে রেখে দিলে পাখিসহ অন্যান্য প্রাণী ও পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে। তাই ফসল রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বিষমিশ্রিত খাবার জমিতে ছড়িয়ে রাখলে বন্য পাখির পাশাপাশি গৃহপালিত পশুপাখি এবং অসাবধানতার কারণে মানুষও ক্ষতির শিকার হতে পারে। এ ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে, সে জন্য কৃষক ও জমির মালিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

দেশে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রচলিত আইন রয়েছে। ঘটনার ধরন ও নিহত পাখির প্রজাতি অনুযায়ী বন্যপ্রাণী হত্যা বা নিধনের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তফসিলভুক্ত পাখি হত্যা বা নিধন প্রচলিত বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষিজমিতে কীটনাশক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত মাত্রা ও নিরাপদ পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। বিশেষ করে বিষমিশ্রিত ধান বা অন্য কোনো খাবার খোলা অবস্থায় জমিতে রেখে দেওয়া হলে তা পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মদনা মাঠে বিপুলসংখ্যক পাখির মৃত্যুর ঘটনা কৃষিজমিতে কীটনাশকের নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে।

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১