
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গাংরা গ্রামের বাসিন্দা মো. গোলাম মোস্তফা (৬২) তার পিতা রিয়াজ উদ্দিনের মালিকানাধীন ১৬ শতাংশ জমি বিক্রয়ের জন্য তার ছোট ভাই মো. কামরুজ্জামান স্থানীয় বাসিন্দা মো. রকি বাবুর সঙ্গে চুক্তি করেন। জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।
গত ১৪ আগস্ট ২০২৩ তারিখে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে রকি বাবু অগ্রিম ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন এবং ওই টাকার বিপরীতে একটি হ্যান্ডনোট গ্রহণ করেন। বাকি ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা পরিশোধের পর জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করার কথা ছিল। পরবর্তীতে ১ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে জমি রেজিস্ট্রির জন্য ধামইরহাট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হলে রকি বাবুর কাছে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় তিনি একই জমি গোলাম মোস্তফার নিকট বন্ধক রাখার প্রস্তাব দেন। এতে সরল বিশ্বাসে গোলাম মোস্তফা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং এর বিপরীতে রকি বাবুর কাছ থেকে আরেকটি হ্যান্ডনোট গ্রহণ করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই দিন রকি বাবু বাকি ১০ হাজার টাকা পরিশোধ, ইফতারের আয়োজন এবং পূর্বের ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার হ্যান্ডনোট ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করলেও পরবর্তীতে তিনি তা পালন করেননি। বরং একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই বিষয়ে গ্রামে কয়েকবার শালিসি বৈঠকে তাকে ডেকে আনতে পারে নাই।
এ ঘটনায় স্থানীয় বেলায়েত হোসেন, মোকলেছুর রহমান ও জালাল উদ্দীন বলেন, রকি বাবু প্রতারণার মাধ্যমে জমি লিখে নিয়েছেন। জমির বায়না হিসেবে দেওয়া টাকার হ্যান্ডনোট ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি তা দেননি। জমি রেজিস্ট্রির দিন গোলাম মোস্তফার কাছে বন্ধক দেখিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হ্যান্ডনোটের মাধ্যমে গ্রহণ করেন এবং পরে মোস্তফার বৃদ্ধ পিতার কাছ থেকে জমি লিখে নেন। তারা অভিযোগ করেন, প্রায় ১০০ বছর বয়সী এই বৃদ্ধ ব্যক্তি কম শোনেন-এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। এছাড়া কিছু টাকার জন্য মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ সময় তারা জানান, তারা ঘটনাটির সাক্ষী ছিলেন।
গোলাম মোস্তফা বলেন, তার বাবার কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে। তার পাওনা ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং জমি বিক্রয়ের সময় বাকি টাকা চাইতে গেলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি কিছুদিন আগে কোদাল দিয়ে মারারও চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রকি বাবুর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, তিনি জমি কিনেছেন এবং এ জন্য ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করেছেন। তবে নির্ধারিত সময়ে জমি না পাওয়ায় পরে ২০২৪ সালে জমি বুঝে নেন এবং পুরো টাকা পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন। তিনি আরও বলেন, মো. কামরুজ্জামান তার কাছ থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা নিয়েছেন এবং সেই টাকার জন্যই মামলা করা হয়েছে, যা জমির বায়নার টাকা নয়। এছাড়া গোলাম মোস্তফা তার কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ধার নিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, কাউকে হয়রানি করা হয়নি এবং বিষয়টি আদালতে নিষ্পত্তি হবে। বিবাদি রকি বাবুর সাথে সাক্ষাৎ করে ডিডের কপি দেখতে চাইলে প্রতিবেক কে দেখাতে অস্বীকার করে।
আপনার মতামত লিখুন :