নোয়াখালীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক


তছলিম হোসেন, নোয়াখালী প্রকাশের সময় : ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ ৫৬
নোয়াখালীতে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তে দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক

নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অর্থের বিনিময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সহযোগিতার অভিযোগও করেছেন এক চাকরিপ্রার্থী নারী।

অভিযোগটি তদন্তের জন্য দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।

রোববার (২৫ অক্টোবর) সহকারী শিক্ষক পদে আবেদনকারী মুক্তা বেগম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উচ্চমান সহকারী মো. সোহরাব উদ্দিন ও কম্পিউটার অপারেটর মোহাম্মদ মঈন উদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইশরাত নাসিমা হাবিবের বিরুদ্ধে তাঁদের সহযোগিতা করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে মুক্তা বেগম দাবি করেন, ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর সহকারী শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে তাঁর কাছ থেকে নগদ, চেক ও অন্য মাধ্যমে মোট আট লাখ টাকা নেওয়া হয়। এ লেনদেনে স্থানীয় এক শিক্ষক মধ্যস্থতা করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তাঁর চাকরি হয়নি এবং টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

অভিযোগকারিণীর ভাষ্য, চাকরি দেওয়ার আশ্বাসের সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁস অথবা প্রক্সি পরীক্ষার বিষয়টিও যুক্ত ছিল। এ ছাড়া অর্থ লেনদেনের অডিও রেকর্ড ও ব্যাংক চেকের প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।

মুক্তা বেগম আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে প্রভাব খাটানোর ভয় দেখানো হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বদলি ও পদায়নসংক্রান্ত কার্যক্রমেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অভিযোগে আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে অতীতে প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রক্সি জালিয়াতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার দাবি করা হয়েছে। এসব দাবির পক্ষে সংশ্লিষ্ট মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা আদালতের নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই প্রয়োজন।

অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্ত কর্মচারীদের

অভিযোগের বিষয়ে উচ্চমান সহকারী মো. সোহরাব উদ্দিন বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। কোনো শিক্ষক তাঁর কর্মকাণ্ডে হয়রানি বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতে পারেন। তদন্ত হলে বিষয়টি প্রমাণিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কম্পিউটার অপারেটর মোহাম্মদ মঈন উদ্দিনও তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো মিথ্যা ও বানোয়াট; এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইশরাত নাসিমা হাবিবের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস জেলা প্রশাসকের

নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্তের জন্য দুই অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেবেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।

 

ই-প্রিন্ট

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 ১২
৩৪৫৬৭৮৯
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১