চীনা মুদ্রা ইউয়ানের কাছে কোণঠাসা মার্কিন ডলার


ফোর্বস প্রকাশের সময় : ৩ মে, ২০২৬, ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
চীনা মুদ্রা ইউয়ানের কাছে কোণঠাসা মার্কিন ডলার

বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের আধিপত্য কমিয়ে নিজেদের মুদ্রা ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে চীন আরেকটি বড় সাফল্য অর্জন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে খনিজ লোহার বাজার সম্পূর্ণভাবে ডলারের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এবার সেখানে বড় ধরনের ফাটল ধরালো বেইজিং। বিশ্বের সর্ববৃহৎ খনি কোম্পানি অস্ট্রেলিয়ার বিএইচপি-এর সঙ্গে প্রায় সাত মাস ধরে চলা একটি কঠিন বিরোধের অবসান ঘটিয়ে এই সাফল্য অর্জন করেছে চীন।

এতদিন পর্যন্ত বিএইচপি চীনের কাছে যত লৌহ আকরিক বিক্রি করতো তার সবটুকুই ডলারে লেনদেন হতো। তবে নতুন চুক্তি অনুযায়ী, এখন থেকে এর একটি অংশ চীনা মুদ্রা ইউয়ানে পরিশোধ করা হবে। চীনের জন্য এটি একটি বিশাল প্রতীকী জয়, কারণ দশকের পর দশক ধরে তারা অন্য দেশগুলোর কাছ থেকে খনিজ সম্পদ কেনার ক্ষেত্রে নিজেদের মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করে আসছিল।

লোহার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের বাজারেও এখন ডলার সরিয়ে চীনা মুদ্রার লেনদেন বাড়ছে। এমনকি গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর মধ্যেও চীনা মুদ্রায় ঋণ নেওয়ার হার রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। স্বল্প সুদের হারের কারণে গোল্ডম্যান স্যাক্সের মতো শীর্ষস্থানীয় মার্কিন ব্যাংকগুলোও চীনের অফশোর ঋণ বাজারের দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করার অনিশ্চয়তা এড়াতে অনেক বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠান এখন ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে।

মোদি–পুতিন বৈঠক: বাণিজ্য, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় জোর

খনিজ বাজারগুলোতে এই পরিবর্তনের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে চীন সরকারের তৈরি করা নতুন প্রতিষ্ঠান ‘চায়না মিনারেল রিসোর্সেস গ্রুপ’ (সিএমআরজি)। এই সংস্থাটি চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য আকরিক লোহা আমদানির ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে। বিএইচপি শুরুতে সরাসরি চীনা ইস্পাত কারখানাগুলোর সঙ্গে মার্কিন ডলারে চুক্তি করতে চাইলেও সিএমআরজি ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।

বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দেশ বাংলাদেশ

একপর্যায়ে তারা বিএইচপি-এর জিম্বলবার আকরিক লোহা আমদানি নিষিদ্ধ করে দেয়। এই অচলাবস্থা নিরসনে সম্প্রতি বিএইচপি-এর বিদায়ী প্রধান নির্বাহী মাইক হেনরি এবং নতুন প্রধান ব্র্যান্ডন ক্রেগ বেইজিংয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই নতুন একটি চুক্তি সই হয়, যার মাধ্যমে বিএইচপি চীনের মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা মেনে নেয় এবং কিছুটা ছাড় দিতে বাধ্য হয়।

অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য শীর্ষ আকরিক লোহা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যেমন রিও টিন্টো এবং ফোর্টেস্কু অনেক আগে থেকেই চীনের এই অভ্যন্তরীণ মূল্য সূচক মেনে নিয়ে আসছিল। তবে এবার বিএইচপি-এর মতো সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের নতি স্বীকারের ঘটনাটি বিশ্ব খনিজ বাজারে এই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি চীনের হাতে চলে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ

লোহা আকরিকের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এতদিন ধরে মার্কিন সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের ‘প্ল্যাটস ইনডেক্স’ সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী ছিল। কিন্তু চীন সেই সূচকের পরিবর্তে তাদের নিজস্ব ‘বেইজিং আয়রন ওর পোর্ট স্পট প্রাইস ইনডেক্স’ চালু করার দাবি জানিয়ে আসছিল।

নতুন চুক্তির আওতায় বিএইচপি শুধু এই চীনা সূচক মেনে নেয়নি, বরং চীনের ইস্পাত কারখানাগুলোর জন্য অতিরিক্ত ১ দশমিক ৮ শতাংশ মূল্যছাড়ও দিয়েছে। চীনা সংবাদমাধ্যম কাইসিন জানায়, বিএইচপি-এর জিম্বলবার আকরিকের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে এখন ৫১ শতাংশ চীনা মুদ্রা ইউয়ান এবং বেইজিংয়ের মূল্য সূচক ব্যবহার করা হবে।

চীনের এই ধারাবাহিক সাফল্যের পর ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে তাদের অন্যান্য খনিজ আমদানির ক্ষেত্রেও রেনমিনবিতে লেনদেনের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১