যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নাজমুল


লাখোকন্ঠ অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ ৮৩
যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় বেকসুর খালাস পেলেন সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নাজমুল

লাখোকন্ঠ অনলাইন ডেস্ক :মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় সাংবাদিক **হাবিবুর রহমান নাজমুল**-এর বিরুদ্ধে দায়ের করা যৌতুক নিরোধ আইনের মামলায় তাঁকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (দ্বিতীয় আদালত), মৌলভীবাজার আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় গত ২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এ রায় প্রদান করেন।

আদালতের নথি ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, নাজমুলের স্ত্রী **রহিমা আক্তার হলি (২৫)** বাদী হয়ে মৌলভীবাজার আদালতে **সি.আর. মামলা নং-১৫৩/২০২৫** দায়ের করেন। মামলায় **যৌতুক নিরোধ আইন, ২০১৮-এর ৩ ধারায়** অভিযোগ আনা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নাজমুলকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।

 

আদালতের সার্টিফাইড কপি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নথি পর্যালোচনায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক আইনি পদক্ষেপের বিষয়টি উঠে এসেছে।

নথি অনুযায়ী, গত ২০১৯ সালের ২ অক্টোবর মো. সালেহ উদ্দিন মাসুকের ছেলে সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নাজমুলের সঙ্গে মো. জয়নাল আবেদীনের মেয়ে রহিমা আক্তার হলির পারিবারিকভাবে বিবাহ হয়। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে পাঁচ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

নথিতে উল্লেখ রয়েছে, পারিবারিক বিরোধের এক পর্যায়ে স্ত্রী ও সন্তানকে শ্বশুরবাড়িতে অবৈধভাবে আটকে রাখার অভিযোগ এনে নাজমুল **পিটিশন মামলা নং-১৪৮/২০২৫ (রাজ)** দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সার্চ ওয়ারেন্ট (S/W) জারি করলে রাজনগর থানা পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে আদালতে উপস্থাপন করে।

পরবর্তীতে হত ২৫ জুন ২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহিম ইকবাল চৌধুরী উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে মুচলেকা গ্রহণের মাধ্যমে তাঁদের জিম্মায় প্রদান করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন।

 

আদালতের নথি অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে  নাজমুল তাঁর স্ত্রীর কথিত পরিচিত হুমায়ুন ইসলাম টিপু (২৮), মারজান আহমদ (২৬) ও কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি এবং হামলার চেষ্টার অভিযোগ এনে **সি.আর. ৫৮/২০২৬ (রাজ)** মামলা দায়ের করেন। একই সঙ্গে শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় **১০৭ ধারায় ৪৪/২০২৬ (রাজ)** নম্বরের একটি প্রসিডিং মামলাও করেন। এসব অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে।

 

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নাজমুল বলেন,আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং আমার পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এই যৌতুক মামলাটি করা হয়েছিল বলে আমি মনে করি। শুরু থেকেই আমি আদালতের প্রতি আস্থাশীল ছিলাম। বিজ্ঞ আদালত নিরপেক্ষভাবে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র মূল্যায়ন করে আমাকে নির্দোষ ঘোষণা করায় আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি।”

আইনজীবীদের মতে, আদালতের এ রায় সংশ্লিষ্ট মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়েছে। পারিবারিক বিরোধসংক্রান্ত মামলায় প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা আদালতেই যাচাই হয় এবং প্রতিটি মামলার সিদ্ধান্ত তার নিজস্ব তথ্য-প্রমাণের ওপর নির্ভরশীল।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১