
বিশেষ প্রতিনিধি :মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের এক অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবারের মাথা গোঁজার একমাত্র ঘরে কোনো টিন নেই। ভাঙা ঘরে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন ওই পরিবারের প্রধান তাজুল ইসলাম। সরকারি সহায়তার আশায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি তার। সম্প্রতি কুলাউড়ায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) পক্ষ থেকে দুস্থদের মাঝে ঢেউটিন বিতরণ করা হলেও, সেই তালিকায় নাম ওঠেনি এই প্রকৃত অভাবী মানুষটির।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম অত্যন্ত অসহায় ও দিনমজুর। তার ঘরের চালের টিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি ও রোদে পরিবার নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন তিনি। একটি সরকারি টিনের জন্য তিনি ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করেছিলেন। গত কয়েকদিন আগে কুলাউড়া উপজেলায় সাড়ম্বরে সরকারি ঢেউটিন বিতরণ করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। অথচ সেই তালিকায় স্থান হয়নি তাজুল ইসলামের মতো প্রকৃত অসহায় ব্যক্তির।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের প্রশ্ন— “যদি তাজুল ইসলামের মতো গৃহহীন ও প্রকৃত গরিব মানুষ সরকারি টিন না পায়, তবে এই টিন কারা পাচ্ছে?” প্রকৃত অভাবীদের বঞ্চিত করে অন্য কাওকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী তাজুল ইসলাম অত্যন্ত দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “আমার ঘরে টিন নাই, খুব কষ্টে আছি।
চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করেছিলাম, উপজেলায় এমপি সাহেব টিন দিলেন, কিন্তু আমার কপালে জুটল না। গরিবের কষ্ট দেখার কেউ নেই।”
এ বিষয়ে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সরকারি ত্রাণ ও পুনর্বাসন সামগ্রী বিতরণে প্রকৃত দুস্থ ও অসহায়দের তালিকা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করা উচিত, যাতে কোনো প্রকৃত অভাবী মানুষ সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হন।
আপনার মতামত লিখুন :