
নতুন এ পে স্কেলের আওতায় আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও সুবিধা পাবেন। বিশেষ করে কম বেতনে কর্মরতদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন এবং বিভিন্ন স্তরের বেতনের ব্যবধান কমিয়ে আনাই সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
গত ২১ মে সচিবালয়ে নবম জাতীয় পে স্কেল চূড়ান্ত করতে গঠিত সচিব কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামোয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তুলনায় নিম্নস্তরের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি ও বাড়তি সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রেডের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান বেতন বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে সভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়।
নতুন জাতীয় বেতন কাঠামোর আওতায় সরকারি চাকরির সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এতে প্রশাসন ও মাঠপর্যায়ের কর্মী, শিক্ষক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, স্বাস্থ্যসেবাকর্মী এবং বিচার বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের জনবল থাকবেন। একই সঙ্গে স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্যও সরকার আলাদা সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করছে, যাতে তারাও নতুন পে স্কেলের সুবিধা সমভাবে উপভোগ করতে পারেন।
নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন ব্যবস্থাতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রস্তাব উঠেছে। বিশেষ করে স্বল্প পেনশনভোগীদের সুবিধা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সচিব কমিটির বৈঠকে কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যেসব পেনশনার ২০ হাজার টাকার কম পেনশন পাচ্ছেন, নতুন পে স্কেল চালু হলে তারাই সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাবেন।
আগামী ১ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন পে স্কেল পুরোপুরি কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো দ্রুত গতিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ নতুন পে স্কেল বাস্তবায়িত হলে নিম্ন আয়ের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এবং সরকারি চাকুরিতে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে এটি একটি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।
নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে আরও সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন এখানে
আপনার মতামত লিখুন :