এক বছরেও শুরু হয়নি জোবায়েদ হ.ত্যা মামলার বিচার, কান্না থামেনি বাবা-মায়ের


জবি প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ ৫৪
এক বছরেও শুরু হয়নি জোবায়েদ হ.ত্যা মামলার বিচার, কান্না থামেনি বাবা-মায়ের

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসেন হত্যার এক বছর পেরিয়ে গেলেও শুরু হয়নি মামলার বিচার। সন্তান হত্যার বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় দিন কাটছে তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের। তাঁদের চোখের পানি আর স্বজনদের দীর্ঘশ্বাসের মধ্যে পরিবারের একটাই দাবি—দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার নূর বক্স লেনের একটি ভবনে ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে খুন হন জোবায়েদ। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ছাত্রীটির বাসার নিচতলায় তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। এ ঘটনায় জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশরাফ হোসেন। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন জোবায়েদের ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা, তাঁর প্রেমিক মাহির রহমান এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান।

বর্তমানে মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন। তিন আসামিই কারাগারে রয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে শুনানি পিছিয়ে আগামী ২৮ অক্টোবর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। ওই দিন আসামিদের জামিন আবেদনও নামঞ্জুর করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন খান বলেন, ‘মামলাটি বিচারের জন্য আমাদের আদালতে এসেছে। আগামী ২৮ অক্টোবর চার্জ গঠনের দিন ধার্য রয়েছে। আমরা আশা করছি, ওই দিনই অভিযোগ গঠন সম্পন্ন হবে এবং দ্রুত সাক্ষী হাজির করে বিচার শেষ করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।’

বিচার শুরু না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী এবং জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত। তিনি বলেন, ‘ভাই হত্যার বিচারটা হলে অন্তত বাবা-মাকে সান্ত্বনা দিতে পারতাম। আজ এক বছর হয়ে গেল, বিচারই শুরু হলো না। প্রতিদিন মা কান্নাকাটি করেন, বাবার চোখে পানি। তাঁরা জানতে চান বিচার কবে শুরু হবে, কবে রায় হবে—আমি কোনো জবাব দিতে পারি না। আমরা আসামিদের দ্রুত ও সর্বোচ্চ সাজা চাই।’

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলার ঘটনা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। ছাত্রী বর্ষার আইনজীবী নূর মাহাবুবুল আলম দাবি করেছেন, তাঁর মক্কেল নির্দোষ এবং ষড়যন্ত্রের শিকার। অন্যদিকে মাহিরের আইনজীবী এম রাশেদুজ্জামান দাবি করেন, ত্রিভুজ প্রেমের টানাপোড়েন ও জোবায়েদের কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ ঘটনা ঘটে এবং এতে বর্ষার ভূমিকা ছিল বলে তিনি মনে করেন। এসব বক্তব্য মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাচাইয়ের বিষয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করতেন জোবায়েদ। ঘটনার দিন বিকেলে পড়াতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি তিনি। পরে ওই ভবনের সিঁড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবারের স্বপ্ন ছিল, ছেলে পড়াশোনা শেষ করে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হবেন। কিন্তু হত্যাকাণ্ডে সেই স্বপ্ন ভেঙে যায়। এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার শুরু না হওয়ায় এখন আদালতের দিকে তাকিয়ে দিন গুনছে জোবায়েদের পরিবার।

ই-প্রিন্ট

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 ১২
৩৪৫৬৭৮৯
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১