মৌলভীবাজার-২ আসনের ভোটারদের প্রত্যাশা ও আগামীর ভাবনা


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
মৌলভীবাজার-২ আসনের ভোটারদের প্রত্যাশা ও আগামীর ভাবনা

মোঃ আব্দুল কালাম ,মৌলভীবাজার:  আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনের রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম হয়ে উঠেছে। কুলাউড়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনের ভোটাররা তাদের আগামীর প্রতিনিধির কাছে একগুচ্ছ সুনির্দিষ্ট প্রত্যাশা তুলে ধরছেন।

রবিবার ১৯ জানুযারী দুপুরে সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায় যে,ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের অন্যতম দাবি হচ্ছে, মৌলভীবাজার ২ আসনে এবার ব্যাতিক্রমী পরিবর্তন দেখতে চান তারা, ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন সহ এলাকার গ্রামীন জনপদের উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন যিনি তাকেই ভোট দেবেন তারা ।

কুলাউড়ার উপজেলার  তরুণ ভোটারদের প্রধান দাবি হচ্ছে ভাঙাচোরা গ্রামীণ রাস্তাঘাটের সংস্কার। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলের সাধারন মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন পাহাড়ি অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার স্থায়ী উন্নয়ন চান তারা। ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এখন সময়ের দাবি। অত্র অঞ্চলের শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির দাবি দীর্ঘদিনের। ভোটাররা আশা করছেন, কুলাউড়ায় কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা বা ক্ষুদ্র বিসিক শিল্পনগরী গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে, যা প্রবাস-নির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি স্থানীয় আয়ের উৎস তৈরি করবে।কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক হাসপাতালে রূপান্তর এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি সর্বজনীন। এছাড়া, কুলাউড়া সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও কারিগরি শিক্ষার প্রসার চান অভিভাবকরা।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ভোটাররা লাখোকন্ঠকে বলেন, প্রকৃতি ও পাহাড় ঘেরা কুলাউড়ার পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর প্রত্যাশা ভোটারদের। বিশেষ করে কুলাউড়া সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় এবং চা বাগান কেন্দ্রিক ইকো-ট্যুরিজম প্রসারে জনপ্রতিনিধির কার্যকর ভূমিকা চান স্থানীয়রা।তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে কুলাউড়াকে সম্পূর্ণভাবে মাদকমুক্ত করার দাবি উঠে এসেছে প্রায় প্রতিটি এলাকা থেকে। ভোটাররা এমন একজন প্রতিনিধি চান যিনি সততা ও নিষ্ঠার সাথে সামাজিক অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবেন।
যেহেতু এই আসনের বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রবাসী, তাই তাদের জায়গা-জমি সংক্রান্ত সুরক্ষা এবং দেশে ফেরার পর প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধে বিশেষ সেল গঠনের দাবি জোরালো প্রবাসী ভোটারদের।

মানবাধিকার রক্ষা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা ভোটারদের ভাবনায় প্রাধান্য পাচ্ছে।

কুলাউড়া পৌর শহরের একাধিক বাসিন্দা লাখোকণ্ঠকে বলেন,সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম হাতের নাগালে রাখা। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে জীবনযাত্রার মান উন্নত করা ভোটারদের প্রধান দাবি।ভোটাররা এমন একটি প্রশাসনিক ব্যবস্থা চান যেখানে ঘুষ ও স্বজনপ্রীতি থাকবে না। সরকারি সেবা সহজে পাওয়া এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন দেখতে চান তারা।নাগরিকরা ভয়ভীতিহীন পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চান। আগামীর নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ এবং একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশনের অধীনে স্বচ্ছ ভোট গ্রহণ ভোটারদের অন্যতম বড় প্রত্যাশা।

তরুণ ভোটারদের মূল ভাবনা হলো মেধাভিত্তিক চাকরির সুযোগ এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সহজ পরিবেশ। ফ্রিল্যান্সিং ও আইটি সেক্টরের উন্নয়নে আরও সরকারি সহায়তা তারা প্রত্যাশা করেন।কুলাউড়ার দিলদারপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল হুসেন লাখোকন্ঠকে বলেন, , “আমরা এমন কাউকে চাই যিনি দলমত নির্বিশেষে এলাকার উন্নয়ন করবেন এবং সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকবেন।” অন্যদিকে, তরুণ ভোটার সুমাইয়া জাহান আক্তার বলেন, “ডিজিটাল ও স্মার্ট কুলাউড়া গড়তে আধুনিক প্রযুক্তি ও তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করবেন এমন প্রতিনিধিই আমাদের পছন্দ।”
নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় ভোটারদের এই প্রত্যাশাগুলোই এখন কুলাউড়ার চা-স্টল থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সভা-সেমিনারের মূল আলোচ্য বিষয়।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১