যে কারণে চল্লিশের পর সুস্থ থাকতে প্রোটিন জরুরি


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১:১৭ অপরাহ্ণ
যে কারণে চল্লিশের পর সুস্থ থাকতে প্রোটিন জরুরি

লাখোকণ্ঠ ডেস্ক: বর্তমান সময়ে গড় আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বার্ধক্যের ধারণাও বদলে যাচ্ছে। এখন মানুষের লক্ষ্য কেবল দীর্ঘায়ু হওয়া নয়, বরং একটি প্রাণবন্ত ও কর্মক্ষম জীবন অতিবাহিত করা। বিশেষ করে ৪০ বছর বয়সের পর শরীর ও স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা এখন আর আগের প্রজন্মের মতো নেই। আধুনিক মানুষ এখন অনেক বেশি স্বাস্থ্যসচেতন এবং তারা তাদের জীবনের ৪০-৫০ বছর বয়সকে উপভোগ করতে খাদ্যাভ্যাসে বড় ধরণের পরিবর্তন আনছে।

৪০-এর পর প্রোটিন অপরিহার্য 

পুষ্টিবিদদের মতে, সুস্থভাবে বার্ধক্যকে বরণ করার ক্ষেত্রে প্রোটিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ৪০ বছর বয়সের পর থেকে শরীর ধীরে ধীরে পেশির ভর হারাতে শুরু করে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘সারকোপেনিয়া’। পর্যাপ্ত প্রোটিন ছাড়া শরীর তার শক্তি, গতিশীলতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারাতে থাকে।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশি পুনর্গঠনে শরীরের সক্ষমতা কমে যায়। প্রোটিন এই ক্ষয় রোধ করে শরীরকে শক্তিশালী রাখে। ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন শরীরের প্রতি কেজি ওজনের বিপরীতে ০.৮ থেকে ১.০ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা প্রয়োজন।

সচেতনতা থেকে কার্যকর পদক্ষেপ 

সুস্থ থাকার জন্য কঠোর ডায়েটের প্রয়োজন নেই। ছোট ছোট কিছু পরিবর্তনই এক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে-

১. খাবারে পরিবর্তন: সাধারণ আটার বদলে প্রোটিন সমৃদ্ধ বা ফোর্টিফাইড আটা ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতিদিনের তালিকায় পনির, সয়াবিন বা প্রাণিজ প্রোটিন (মাছ, মাংস, ডিম) রাখা জরুরি।

২. সকালের নাস্তায় গুরুত্ব: শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ নাস্তার বদলে ওটস বা হোল-গ্রেইন জাতীয় খাবার বেছে নেওয়া উচিত। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং সারাদিন শক্তি জোগায়।

৩. প্রাকৃতিক পরিপূরক: সজনে পাতার গুঁড়ো বা ডাল জাতীয় খাবার প্রোটিনের চমৎকার উৎস হতে পারে।

৪. সঠিক নাস্তা: ভাজাপোড়া না খেয়ে বাদাম, বীজ এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

বার্ধক্যের প্রস্তুতি শুরু হোক ৪০ থেকেই 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সুস্থ বার্ধক্যের প্রস্তুতি ৬০ বছর বয়সে শুরু হয় না, বরং তা শুরু হয় ৪০ বছর থেকেই। প্রোটিনকে কেবল অ্যাথলেট বা বডিবিল্ডারদের খাবার মনে না করে, একে প্রতিদিনের খাবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। প্রতি বেলার খাবারে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর চর্বি নিশ্চিত করাই হলো দীর্ঘমেয়াদী সুস্বাস্থ্যের মূল মন্ত্র।

সূত্র: এনডিটিভি

যেসব কারণ আপনার সফলতার জন্য অন্তরায়

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০