
চৌধুরী আরমান হোসেন,ইউরোপ প্রতিনিধি:
সংকট -সম্ভাবনা আর অর্জনের মধ্যে কেটে গেলে উপমহাদেশের বৃহৎ ও ঐতিয্যবাহী রাজ নৈতিক দল আওয়ামী লিগের প্রতিস্ঠার ৭৭ বছর । গত ২৫ বছরের রাজনীতিতেও বহুসংকট মোকেবেলা করেছেন করছেন দলের প্রধান শেখ হাসিনা ও দল হিসেবে আওয়ামী লীগ। বার বার অধিক শক্তি নিয়ে ঘুরে দাড়িঁয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আওয়মী লীগের নেতা কর্মিরা চরম অন্তিম সময়ে পার করছে।দেশে পড়ে থাকা,জেল খাটা,হামলা মামলার স্বীকার হওয়া নেতাকর্মিরা অসহায় জীবন যাপন করছে। অভিযোগ আছে ক্ষমতায় থাকা অনেক মন্ত্রী- এমপি দেশের বাহীরে রয়েছেন, তারা দেশে থাকা নেতা কর্মিদের কোন খোঁজ খবর নিচ্ছেননা।তবে এর মধ্যে ব্যতিক্রমও রয়েছেন, এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ১নং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক তথ্য সম্প্রচার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ্ । তিনি ব্যতিক্রমি কিছু কাজ করে যাচ্ছেন । দেশে থাকা আওয়মী লীগের নেতাকর্মিদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, হাসান মাহমুদ নিজ নিবার্চনী এলাকার বাহিরেও দেশের বিভিন্ন গনমাধ্যম কর্মিদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন নিয়মিত।
৫ আগস্টের পর ইউরোপিয় ইউনিয়নের বিভিন্ন অঞ্চলের নেতাকর্মিদেরকে সংগঠিত করে আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে ছুটে চলছেন নিরলস ভাবে। দল এবং দলের প্রধান শেখ হাসিনার পক্ষে তথ্যউপাত্ব তুলে ধরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আইনি ও মানকাধিকার সংস্থার সাথে দেন দরবার করে যাচ্ছেন বলে জানাযায় ।
লন্ড প্রবাসী রাঙ্গুনীর আওয়ামী লীগ কর্মি মাছুম আহমেদ, হাসান মাহমুদ প্রসঙ্গে এভাবেই বলেন, “হাসান মাহামুদ ফোঁড় খাওয়া মানুষ,উড়ে এসে জুড়ে বসা লোক নয় ।
বীর প্রসবনী চট্টগ্রামে স্কুল ছাত্রলীগের রাজনীতির মাধ্যমে হাতেখড়ি হয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ব বিদ্যালয় হয়ে ধাপে ধাপে জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ১নং যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ড.হাছান মাহমুদ।
বাংলাদেশ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সমুন্নত রাখার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত ভ্যানগার্ড হিসেবে স্কুল জীবন থেকে শুরু করে ৫ আগস্টের পরবর্তীতে আজ অব্দি হাছান মাহমুদের অবিরাম এ ছুটে চলা।’
তিনি আরো বলেন,“দলের অন্তিম সময়ে হাছান মাহমুদ কখনোই দল ও শেখ হাসিনাকে ছেড়ে যাওয়ার কথা ভাবেননি। ২০০৭ সালের পরে দেশের গণতন্ত্রকে যখন অবরুদ্ধ করা হয়েছিল তখন হাছান মাহমুদ ছিলেন শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী। সেই সময়ে শেখ হাসিনার মুক্তি সংগ্রামে হাছান মাহমুদের ভূমিকা ছিল ঈর্ষণীয়। দেশে-বিদেশের শেখ হাসিনার জন্য জনমত গঠন, নিয়মিত দেশের মিডিয়ায় ব্রিফ্রিং, শেখ হাসিনার বার্তা কর্মীদের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি ছিলেন সেতু বন্ধন। ২০২৪ সালের জুলাই মাস দেশ যখন অগ্নিগর্ভ অবস্থায় তখন তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছিলেন। জুলাইয়ের শেষে নেদারল্যান্ডসে তার সরকারি সফর ছিল। কিন্তু দেশের এমন পরিস্থিতিতে তিনি জননেত্রী শেখ হাসিনা ও দেশকে ছেড়ে সরকারি সফরে না যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে তিনি জুলাইয়ে ২৮ তারিখ নেদারল্যান্ডস গমন করেন। সেখানে তার নির্ধারিত সরকারি কর্মসূচির বাইরে গিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটর করিম এ খানের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাতের জন্য দেশে চলমান জঙ্গি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেন এবং এ সম্পর্কিত প্রমাণ তথ্যাদি উত্থাপন করেন। নেদারল্যান্ডস থেকেই তিনি আবার ব্রিটেনে গমন করেন। সেখানে তিনি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথেও সাক্ষাত করেন। এটিও তার নির্ধারিত সরকারি কর্মসূচির বাইরে ছিল। এবং কালক্ষেপন না করেই দল ও নেত্রীর পাশে থাকার জন্য আগস্টের ৩ তারিখ দেশে ফিরে আসেন।
আওয়ামী লীগ কর্মি মাসুমের সাথে আরো অনেকেই যোগ হয়ে বলেন,
“৫ আগস্ট, ২০২৪ সালে পট পরিবর্তনের ফলে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশেই ড. হাছান মাহমুদ ইউরোপ গমন করেন। সেই থেকেই একজন হাছান মাহমুদ রাতদিন কাজ করে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের জন্য, শেখ হাসিনার জন্য, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির জন্য। নিয়মিত ইউরোপীয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ, ইউরোপের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ষড়যন্ত্র তুলে ধরা, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করার, দেশে জঙ্গিবাদের বিস্তার লাভ করা ইত্যাদি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলকে অবহিতকরণ, যোগাযোগ রক্ষা করা,আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে সাক্ষাৎকার প্রদান ইত্যাদি এগুলো গুরু দায়িত্ব পালন করা একজন হাছান মাহমুদের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে। ইতিমধ্যে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দিল্লি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে জুলাই-আগস্টের ঘটনা নিয়ে জাতিসংঘের মনগড়া রিপোর্টের বিরুদ্ধে তথ্যবহুল প্রতিবাদ উপস্থাপন করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে জনশ্রুত আছে, আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে এ মুহুর্তে যোগাযোগের জন্য শেখ হাসিনার অন্যতম পছন্দসই ব্যক্তিটি হচ্ছেন ড. হাছান মাহমুদ। কারণ শেখ হাসিনা জানেন এ মুহূর্তে দলের অবস্থান ফেরাতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় হবে আন্তর্জাতিক চাপ। আর এ কাজটি করতে দলের মধ্যে অপরিহার্য ব্যক্তি হচ্ছেন হাছান মাহমুদ। যিনি সংকটে-সংগ্রামে কোনদিনই শেখ হাসিনা কিংবা আওয়ামী লীগকে ছেড়ে যাননি । উপস্থিত যুবলীগ কর্মি কৃষাণ মাহমুদ বলেন,আমরা দেখছি ইতোমধ্যে দেশের ভেতরে ও বাহিরে বিশেষ মহল কর্তৃক মিথ্যে,বানোয়াট ও ভুয়া সংবাদের শিকার হচ্ছেন হাছান মাহমুদ । কিন্তু হাছান মাহমুদ এসব মিথ্যে সংবাদে তোয়াক্কা না করে শেখ হাসিনার একজন বিশ্বস্ত,আস্থাভাজন ও পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন ”
আপনার মতামত লিখুন :