
দুদকের আবেদনে বলা হয়, রাজাসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি দখল, অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার এবং ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মাধ্যমে অনিয়ম করে আইপিপি রেটে গ্যাস সরবরাহ নেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন। তদন্তের সময় তাঁদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে আদালতকে জানায় দুদক।ইতোমধ্যে তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ,আয়কর নথি তলব, কারণ দর্শাও নোটিস,বিদেশ যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ করা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর প্রগতি সরণিতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত বাহাদুর হোসেন মনির হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আসামি করা হয়েছে হাসান মাহমুদ রাজা, মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ ও ইউনাইটেড গ্রুপের কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) আফজাল নাছেরকে। অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকারকে অর্থায়ন করেছিল ইউনাইটেড গ্রুপ। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ইউনাইটেড গ্রুপের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি উঠলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো বড় পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে এক-এগারোর সময় গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (বরখাস্ত) আফজাল নাছেরের বিরুদ্ধে। বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছে আফজাল নাছের। তিনি ছিলেন ইউনাইটেড গ্রুপ নির্বাহী পরিচালক।

অভিযোগ রয়েছে
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের মঈনুল রোডের বাড়ি থেকে উচ্ছেদে ভূমিকা রাখা তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল আব্দুল মুবীনের সঙ্গে পরবর্তীতে আত্মীয়তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে ইউনাইটেড গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজার। দুই পরিবার বেয়াই সম্পর্কেও আবদ্ধ হয়।বর্তমানে মুবীন ইউনাইটেড পাওয়ারের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গ্রেপ্তার এড়াতে তাঁকে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর গোয়েন্দা বিভাগের অনুসন্ধানে ইউনাইটেড গ্রুপের বিরুদ্ধে ১ হাজার ২৬০ কোটি টাকা কর ফাঁকির তথ্য উঠে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। পাশাপাশি গ্রুপটির কয়েকজন পরিচালক ব্যক্তি পর্যায়েও প্রায় ৪০ কোটি টাকা কর ফাঁকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে রাজউকের অনুমোদন ছাড়া ইউনাইটেড গ্রুপের কর্পোরেট অফিস এবং ইউনাইটেড ইউনিভার্সিটির ভবন নির্মাণেও নকশাগত জটিলতার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে একাধিকবার চিঠি দিয়েছে রাজউক।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, বিদ্যুৎ, রিয়েল এস্টেটসহ নানা খাতে বিস্তৃত প্রভাব গড়ে তোলে ইউনাইটেড গ্রুপ। এখন সরকার পরিবর্তনের পরও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতগুলো গুরুতর অভিযোগ, একাধিক মামলা ও দুদকের তদন্ত চলমান থাকার পরও যদি ইউনাইটেড গ্রুপের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে তা বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্নে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করবে।
ভুক্তভোগী এমএমএ কাদের সাংবাদিক সন্মেলন
ভুক্তভোগী এমএমএ কাদের সম্প্রতি সাংবাদিক সন্মেলন করেন ইউনাইটেড গ্রুপের সানজারীর প্রতারণার বিরুদ্ধে ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০০৪ সালে ইউনাইটেড গ্রুপের নেপচুন সিটির সাঁতারকুল মৌজার ১০৩, ১০৬ ও ১১১ নম্বর রোডের ৪১, ৩৯, ১২ নম্বর প্লটে দুই বিঘা এবং কাঠালদিয়া মৌজার ১০৩ ও ১০৮ নম্বর রোডের ৫১ নম্বর প্লটে এক বিঘা জমি ক্রয় করেন। কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাদের প্লট বুঝিয়ে দেয়। এরপর দলিল করে দেয়ার পর থেকে তিনি ওই জমিতে বিলাসবহুল ভবন (নির্মাণাধীন) ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করে ভোগ দখল করে আসছেন।
নিয়মিতভাবে জমির খাজনা ও অন্যান্য খরচ বহন করে আসছেন। চারতলা ভবনের কাজ (হোয়াইট হাউজ, শেপ টেবিলের বিপরিত) কিন্তু জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ১৬ বছর পর ২০২০ সালের ৪ অক্টোবর হঠাৎ করে ইউনাইটেড গ্রুপ তার ৫১ নম্বর প্লটে থাকা সকল স্থাপনা সরিয়ে ফেলতে বলে। কিন্তু তাতে রাজি হননি এমএমএ কাদের। ওই মাসের ১১ তারিখ কাউকে কিছু না বলে বুলডুজার দিয়ে সমস্ত স্থাপনা গুড়িয়ে দেয় ইউনাইটেড কর্তৃপক্ষ। অপর প্লটে ১২ বছর আগে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করলেও আংশিক জমির নামজারি না করে দেয়ায় ভবনের কাজ শেষ করতে পারছেন না।
এই ব্যপারে আদালতে মামলা করা হলে সাবেক স্বৈরাচার সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নেতা, পিবিআই’র সাবেক প্রধানসহ পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দিয়ে হুমকি দেয়। এমনকি শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের নাম ব্যবহার করে পরিবারের সদস্যসহ কাদেরকে হত্যা করে ওই জমির মাটিতে পুতে ফেলার হুমকি দিতে থাকে। এতে ভয়ে এমএম এ কাদেরের দুই ছেলে বিদেশ পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। বিচারের আশায় কাদের সরকারের বিভিন্ন সংস্থার দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও কোন লাভ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার পৃষ্ঠপোষকতায় ইউনাইটেড গ্রুপ বিদ্যুৎখাতসহ বিভিন্ন খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস কারও ছিলো না। কিন্তু বর্তমান নির্বাচিত সরকার ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার মানবিক গুনাবলী দেখে অনেকের মত আমিও ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায় বুক বেঁধেছি। তারা পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে ন্যায় বিচারের ব্যবস্থা করবেন এটা আমাদের কাম্য।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর (অবঃ)কামরুল ইসলামের অবিযোগ:
গুলশানসহ বৃহত্তর এই আসনের সাবেক এমপি সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাবেক মেজর বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুল ইসলাম লাখোকণ্ঠের সাথে আলাপ কালে বলেন ইউনাইটেড গ্রুপ এদের শুরুটা আমি দেখেছি এরা কি ভাবে জিরো থেকে আজ বর্তমান অবস্থানে । তিনি বলেন আমার থেকে টাকা নিয়ে আমাকে শেয়ারের অংশ দেয়নি, দাপে দাপে প্রতারণ করেছে, করে যাচ্ছে রাজা,সানজারীরা। এখনও প্রতারণা করে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আমার করা মামলাও রয়েছে।
ভূক্তভোগী এমএমএ কাদের লাখোকণ্ঠকে বলেন আমাদের কেনা যায়গা rancon কে বিল্ডিং করার জন্য দিয়েছি সেখানে ও ঝামেলা করছে ইউনাইটেড গ্রুপ। তিনি বলেন আমার জমি দখল উচ্ছেদের মামলায় সানজারী ও তার কর্মকর্তারা আদারতে গিয়ে কয়ে বার হাজিরা দিয়ে জমি বুঝিয়ে দেবে বলে বলে আসলেও সমাধান করছেনা । তিনি আরো বলেন সানজারীর দেশত্যাগের দুদকের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও চিকিৎসার মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতারণা করে আসছে। এমএমএ কাদের বলেন আমার যে জমি দখল করেছে তার বর্তমান মূল্য প্রতি বিঘা প্রায় ১০০ কোটি টাকা। এটি কমার্শিয়াল প্লট,ডি আই টি অনুমোদিত ছিল এর অবস্থান ইউনাইটেড গ্রুপের অফিসের সামনের পশ্চিম পাশে প্লট।
ইউনাইটেড গ্রুপ ও এমডি সানজারীর বিরুদ্ধে চলছে বহুমুখি তদন্ত । তদন্ত চূড়ান্ত হলে ইউনাইটেড গ্রুপ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তা-ই এখন দেখার বিষয়।
তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য ইউনাইটড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইনউদ্দিন হাসান রশিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
আপনার মতামত লিখুন :