এআইয়ের ছবিতে আশি-নব্বইয়ের দশকে ফিরছেন মানুষ


লাখোকণ্ঠ ডেস্ক প্রকাশের সময় : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৫৬ অপরাহ্ণ ৫২
এআইয়ের ছবিতে আশি-নব্বইয়ের দশকে ফিরছেন মানুষ

অতীতের প্রতি মানুষের আকর্ষণ চিরন্তন। সময় যত এগিয়ে যায়, ফেলে আসা দিনগুলো ততই স্মৃতিতে ফিরে আসে নতুন রূপে। আর এবার সেই নস্টালজিয়াকে দৃশ্যমান করে তুলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি এমন অনেক ছবি দেখা যাচ্ছে, যেখানে বর্তমান সময়ের মানুষের ছবি এআইয়ের সাহায্যে আশি বা নব্বইয়ের দশকের আদলে রূপান্তর করা হচ্ছে। পোশাক, চুলের কাট, সানগ্লাস, জুতা থেকে শুরু করে ছবির পেছনের পরিবেশ—সবকিছুতেই ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে কয়েক দশক আগের সময়ের আবহ।

ফলে প্রযুক্তির সাহায্যে অনেকেই যেন সাময়িকভাবে ফিরে যাচ্ছেন নিজেদের পরিচিত কিংবা কল্পিত এক অতীতে।

কেন আশি-নব্বইয়ের দশক?

বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসে আশি ও নব্বইয়ের দশক ছিল পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। বিশেষ করে ঢাকা শহরের জীবনযাপন, পোশাক, বিনোদন, সংস্কৃতিচর্চা ও সামাজিক যোগাযোগের ধরন বর্তমান সময়ের তুলনায় ছিল অনেকটাই আলাদা।

আশির দশকে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ ছিল না। মানুষের অবসর কাটত আড্ডা, বই পড়া, সিনেমা, গান, খেলাধুলা কিংবা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে। ফ্যাশন, চুলের ধরন এবং শহরের স্থাপত্যেও ছিল আলাদা বৈশিষ্ট্য।

অন্যদিকে নব্বইয়ের দশকে এসে প্রযুক্তি ও বিশ্বায়নের প্রভাব দ্রুত বাড়তে শুরু করে। যোগাযোগব্যবস্থা, গণমাধ্যম, বিনোদন এবং মানুষের জীবনযাপনে পরিবর্তনের গতি আরও বাড়ে। একুশ শতকে প্রবেশের পর সেই পরিবর্তন আরও তীব্র হয়।

এআইয়ের ছবিতে পুরোনো নিজেকে খোঁজা

এআই দিয়ে তৈরি এসব ছবিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে দৃশ্যমান কিছু বিষয়—পোশাক, চুলের ছাঁট, সানগ্লাস, জুতা, যানবাহন ও পুরোনো দিনের ঘরবাড়ি বা রাস্তার দৃশ্য।

এখানে শুধু ফ্যাশন পুনর্নির্মাণ নয়, নিজের একটি বিকল্প অতীতও কল্পনা করছেন অনেকে। তিন দশক আগে নিজেকে কেমন দেখাত? সেই সময়ে জন্ম হলে জীবন কেমন হতে পারত? কিংবা ওই সময়ের সামাজিক বাস্তবতায় বেড়ে উঠলে নিজের পরিচয়ই বা কেমন হতো—এআইয়ের ছবি যেন এমন কৌতূহলেরও উত্তর খুঁজছে।

কেন এত আকর্ষণ অতীতের প্রতি?

মনোবিজ্ঞান ও সমাজ বিশ্লেষণের দৃষ্টিতে নস্টালজিয়া মানুষের স্বাভাবিক মানসিক অভিজ্ঞতা। পরিচিত ও স্মৃতিময় সময়ের কথা মনে করা অনেকের কাছে স্বস্তিদায়ক হতে পারে।

দ্রুত পরিবর্তনশীল বর্তমান জীবনে কাজের চাপ, তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার কারণে মানুষ কখনো কখনো অপেক্ষাকৃত সরল ও পরিচিত সময়ের দিকে ফিরে তাকাতে চান। সেই জায়গায় শৈশব, কৈশোর কিংবা পারিবারিক স্মৃতির সময় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

এআই সেই আবেগকে এখন আরও সহজে দৃশ্যমান করে তুলেছে। আগে পুরোনো সময়ের ছবি দেখতে অ্যালবাম বা আর্কাইভের প্রয়োজন হতো। এখন কয়েকটি নির্দেশনার মাধ্যমেই নিজের বর্তমান ছবিকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পোশাক ও পরিবেশে কল্পনা করা সম্ভব।

প্রযুক্তি যত এগোয়, নস্টালজিয়াও কি বাড়ে?

একসময় মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ছিল নতুন প্রযুক্তি। এখন স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং এআই মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ।

প্রযুক্তি মানুষকে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিচ্ছে। একই সঙ্গে সেই প্রযুক্তিই মানুষকে অতীতের সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত করছে। এআইয়ের মাধ্যমে পুরোনো সময়ের ছবি তৈরি করার প্রবণতা তারই একটি উদাহরণ।

তবে এই প্রবণতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাময়িক ট্রেন্ড, নাকি দীর্ঘস্থায়ী নস্টালজিয়ার নতুন রূপ—তা সময়ই বলে দেবে।

নতুন কোনো ট্রেন্ড হয়তো খুব শিগগিরই মানুষের মনোযোগ কেড়ে নেবে। কিন্তু অতীতের প্রতি মানুষের টান থেকে যাবে। কারণ প্রযুক্তি যতই বদলাক, স্মৃতি বদলায় না।

সম্ভবত এআইয়ের তৈরি আশি-নব্বইয়ের দশকের ছবিগুলো সেই পুরোনো স্মৃতিকেই নতুন ভাষা দিয়েছে। মানুষ শুধু অতীতকে দেখছেন না; প্রযুক্তির সাহায্যে কয়েক মুহূর্তের জন্য নিজেকেও সেই সময়ের একজন মানুষ হিসেবে কল্পনা করছেন।

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০