বিটিভির লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগ: বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা


লাখোকণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:২২ পূর্বাহ্ণ ৮৭
বিটিভির লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগ: বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা

বিটিভির লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগ: বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি)। এরই মধ্যে নতুন ডিজাইনের আহ্বান করা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দর্শকের সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক তৈরি করা বিটিভির চিরচেনা লোগো বদলের চিন্তাকে সহজভাবে মেনে নিতে পারছেন না অনেকেই। সাধারণ দর্শক থেকে শুরু করে সংস্কৃতির মানুষেরাও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাদের মতে, লোগো পরিবর্তনের আগে বিটিভির অনুষ্ঠান, ব্যবস্থাপনা ও সম্প্রচারের মানোন্নয়নে নজর দেওয়া জরুরি।

১৯৮০ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারের আমলে রঙিন সম্প্রচার যুগে প্রবেশ করে বিটিভি। ওই সময় শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের হাতে নতুন রূপ পায় বিটিভির রঙিন লোগো। দেখতে দেখতে ৪৬ বছর ধরে সেই লোগোই হয়ে উঠেছে দেশের দর্শকদের কাছে বিটিভির অন্যতম পরিচিত প্রতীক।

বিটিভির লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের মতামত জানিয়েছেন এই প্রতিষ্ঠানেরই সাবেক উপমহাপরিচালক ও নন্দিত টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব খ ম হারূন। তিনি লিখেছেন, ‘বিটিভির স্বর্ণালী সময়ের একটি আবেগ এখনো টিকে আছে, সেটি হলো বিটিভির লোগো। এই লোগোকে আরো আকর্ষণীয় করা যেতে পারে, কিন্তু সেটা হতে হবে ঐতিহাসিক ‘লোগো’টিকে টিকিয়ে রেখে।’

বিটিভির বর্তমান লোগোর সঙ্গে দেশের প্রখ্যাত শিল্পীদের সম্পৃক্ততার কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘মনে রাখতে হবে বর্তমান লোগোটিতে শিল্পী কামরুল হাসান ও মুস্তাফা মনোয়ারের হাতের স্পর্শ আছে। শিল্পী ইমদাদ হোসেন ১৯৭১ এর ডিসেম্বরে বিটিভির লোগো নির্মাণে ভূমিকা রাখেন। পরবর্তীতে ১৯৮০ সালে বিটিভি যখন রঙিন যুগে প্রবেশ করে তখন শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আগের লোগোটিকে আবার নতুন রূপে অঙ্কিত করেন।’

লোগো পরিবর্তনের বদলে বিটিভির কার্যক্রম ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন খ ম হারূন। বিটিভির অনুষ্ঠানে বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা, মেধাবী মানুষদের দিয়ে নতুন কনটেন্ট তৈরি, তথাকথিত ‘অডিশন’ প্রথা বাতিল করে গুণী শিল্পীদের আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত করা এবং ত্রৈমাসিক অনুষ্ঠান পরিকল্পনার ভিত্তিতে আবারও ‘টিভি গাইড’ প্রকাশের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

এ ছাড়া বিটিভির সব চ্যানেলের শূন্য পদ পূরণ, সব স্তরে দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, শিল্পীদের সম্মানী কাঠামো যুগোপযোগী করা এবং টেলিভিশন সংযোগ ও টেলিভিশন সেটের ওপর আরোপিত লাইসেন্স ফির যথাযথ হিসাব রাখার কথাও বলেছেন এই গুণী টিভি ব্যক্তিত্ব।

পাবলিক সার্ভিস ব্রডকাস্টিং অর্গানাইজেশন হিসেবে বিটিভিকে বিজ্ঞাপনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দিয়েছেন খ ম হারূন। একই সঙ্গে বিটিভির ওয়েবসাইটকে আরও জনপ্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

সব মিলিয়ে বিটিভির লোগো পরিবর্তনের উদ্যোগ সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সংস্কৃতিপ্রেমী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চার দশকের ঐতিহ্য বহন করা এই লোগো পরিবর্তন নয়, বরং সংরক্ষণ করেই বিটিভির অনুষ্ঠান, দর্শকসম্পৃক্ততা ও সার্বিক কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার দাবি উঠছে বিভিন্ন মহল থেকে।

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ইউটিউব চ্যানেল ফলো করুন

Google-এ পছন্দের সংবাদ উৎস হিসেবে যোগ করুন

Google-এ পড়ুন লাখোকণ্ঠের খবর 

লাখোকণ্ঠের খবর পেতে ফেসবুক পেজ ফলো করুন

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০