আগামী সপ্তাহেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা? ফেব্রুয়ারিতে ভোটের প্রস্তুতি নিতে ইসিতে যাচ্ছে বার্তা


প্রতিনিধি প্রকাশের সময় : ২৮ জুলাই, ২০২৫, ২:০৫ অপরাহ্ণ
আগামী সপ্তাহেই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা? ফেব্রুয়ারিতে ভোটের প্রস্তুতি নিতে ইসিতে যাচ্ছে বার্তা

লাখোকণ্ঠ অনলাইন ডেস্কঃ আগস্টের প্রথম সপ্তাহে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এই ঘোষণা দিতে পারেন বলে একাধিক সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে। একইসাথে, নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হবে এবং এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক বার্তা শিগগিরই ইসিতে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে।

নির্বাচনের এই সম্ভাব্য ঘোষণার নেপথ্যে কাজ করছে ‘জুলাই সনদ’ চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া। রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই সনদটি আগামী ৫ আগস্টের মধ্যে ঘোষণার বিষয়টি প্রায় নিশ্চিত। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ইতোমধ্যে সনদের একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে। কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, সনদের খসড়া দলগুলোর কাছে পাঠানো হবে এবং বড় কোনো মৌলিক আপত্তি না থাকলে আলোচনার ভিত্তিতে দ্রুতই স্বাক্ষর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদ চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াকে মসৃণ রাখতেই সরকার নির্বাচনের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে আস্থায় আনতে চাইছে।

নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এই নতুন আলোচনা গতি পেয়েছে মূলত ২২ জুলাই থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠকের পর। গত ২৬ জুলাই ১৪টি দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক শেষে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার সাংবাদিকদের জানান, প্রধান উপদেষ্টা চার-পাঁচ দিনের মধ্যেই নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণা করবেন বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। তার এই বক্তব্যই নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়টিকে পুনরায় সামনে নিয়ে আসে।

যদিও মোস্তফা জামালের এই বক্তব্যের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো বিবৃতিতে তারিখ ঘোষণার কোনো উল্লেখ ছিল না। বরং সেখানে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সব ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে গত ১৩ জুন লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পরও ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের একটি সম্ভাব্য সময়সীমার কথা বলা হয়েছিল, তবে তা সংস্কার ও বিচারের অগ্রগতির ওপর শর্তযুক্ত ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাবে বিএনপির মধ্যে এ নিয়ে সংশয়ও তৈরি হয়েছিল।

নির্বাচনের সময়সীমা ঘোষণার বিষয়টিকে বিএনপি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টা দুই-এক দিনের মধ্যে নির্বাচনের সময় ঘোষণা করলে আমরা খুশিই হব। কারণ, এটাই আমাদের দাবি।

তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের মনে করেন, সংস্কার ও গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান না করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হলে তা হবে জুলাইয়ের চেতনার উপেক্ষা ও অপরিপক্বতা।

অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবের মতে, জুলাই সনদ চূড়ান্ত হলে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে আপত্তি থাকবে না।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১