মানুষ যেন শহীদ আবু সাঈদকে ভুলে না যায়: মা


লাখোকণ্ঠ অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ ৯১
মানুষ যেন শহীদ আবু সাঈদকে ভুলে না যায়: মা

মানুষ যেন শহীদ আবু সাঈদকে ভুলে না যায়, বলেছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের মা মোছা. মনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, এই দেশের মানুষ, এই রংপুরের মানুষ, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মানুষ আবু সাঈদকে যেন ভুলে না যায়। আর আমার ছেলের বিচারটা সরকার যেন করে। আমাদের চাওয়া-পাওয়া কিছুই নেই। সরকার যেন আমার ছেলের বিচারটা করে।

জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পর শহীদ আবু সাঈদের মা একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে বুধবার (১৫ জুলাই) এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের নাতি-পুতি’ বলে গালি দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ফুসে উঠে ছাত্রছাত্রীরা। সেই দাবানল ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। এরইমধ্যে ১৫ জুলাই ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে পরদিন ১৬ জুলাই দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে। সেদিন সারা দেশে পুলিশ ও ছাত্রলীগ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মারমুখী অবস্থান নিয়েছিল।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে রংপুরের বেরোবি ক্যাম্পাসের ১ নম্বর গেটের সামনের সড়কে। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীরা জড়ো হলে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ শুরু করে। একপর্যায়ে সবাই যখন ছত্রভঙ্গ, তখন রাস্তার মাঝে পুলিশের মুখোমুখি দুহাত প্রসারিত করে বীরদর্পে দাঁড়িয়ে যান বেরোবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তার হাতে ছিল কেবল একটি লাঠি। মাত্র ১৫ মিটার দূরে রাস্তার উল্টো পাশ থেকে পুলিশ শটগান দিয়ে সরাসরি তার বুক লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একের পর এক গুলি লাগার পরও সাঈদ বুক টান করে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিছুক্ষণ পর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন আন্দোলনের এই সমন্বয়ক।

১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটিয়ে বদলে দেয় বাংলাদেশের ইতিহাস। আজ ইতিহাসের সেই বাঁক বদলানো রক্তাক্ত ১৬ জুলাইয়ের দ্বিতীয় বার্ষিকী।

আর্কাইভ

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১